আটকের ৬ ঘণ্টা পর মুচলেকা নিয়ে সাবেক ইউপি মেম্বারকে ছেড়ে দিল এসআই পরিবেশ দিবস উপলক্ষে শ্রীমঙ্গলে ছাত্রশিবিরের বৃক্ষ রোপণ ও চারা বিতরণ ত্রিমুখী সংঘর্ষে আহত ৮ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় গবেষণা কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে শেরপুরের ধোবারচর জাগরণী কিশোরী সংলাপ কেন্দ্রের র‍্যালি, আলোচনা সভা ও বৃক্ষচারা বিতরণ বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে শেরপুরের ডোবারচর জুঁই মহিলা সমবায় সমিতির উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ গলাচিপায় গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, স্বামী-শ্বশুরবাড়ির চারজনের বিরুদ্ধে মামলা ‘তুরস্কের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা করেছে বাংলাদেশ’ লাখাইয়ে বিশ্ব পরিবেশ দিবসে বৃক্ষ রোপন কর্মসূচী। গলাচিপায় বজ্রাঘাতে কৃষকের মৃত্যু সংসদ ভবন এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্রসহ মিছিল-সমাবেশ নিষিদ্ধ রংপুরে এইচবিসি ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে ঝিনাইগাতীর দুপুরিয়ায় র‍্যালি ও বৃক্ষচারা বিতরণ শেরপুরে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও বৃক্ষচারা বিতরণ বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে নালিতাবাড়ীর রূপনারায়ণকুড়া ইউনিয়নে বর্ণাঢ্য আয়োজন বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে কারিতাসের আয়োজনে ঝিনাইগাতীতে র‍্যালি, আলোচনা সভা ও নাটক প্রদর্শনী ঝিনাইগাতীতে কারিতাসের আয়োজনে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপন ‎বিষ, প্লাস্টিক ও শিল্পবর্জ্যের আগ্রাসনে অস্তিত্ব সংকটে সুন্দরবন: বিপন্ন জীববৈচিত্র্য শ্রীবরদীতে জুলুঙ্গা রজনীগন্ধা সংলাপ ফোরামে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উদযাপন

কোটা ব্যবস্থা বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় অন্তরায়।

মোঃ নাজমুল হাসান - প্রতিনিধি

প্রকাশের সময়: 06-06-2024 07:30:49 am

লেখক: মোঃ নাজমুল হাসান

বর্তমান ২০২৪ সাল, বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ৫৩ বছর‌ কেটে গেছে। আধুনিকতার এই সময়ে যখন শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গবেষণাসহ বিভিন্ন সূচকে আমরা ঈর্ষণীয় গতিতে এগিয়ে যাচ্ছি। ১৯৭১ সালে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে যখন স্বাধীনতা লাভ করি তখন অন্যতম প্রধান কারণ ছিল বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। 

১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ সেই সময়ে পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার ৫৬ শতাংশ হয়েও পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর অফিসার পর্যায়ে নিয়োগে ৯০% পশ্চিম পাকিস্তান এবং শুধু ১০% পূর্ব পাকিস্তান। তাছাড়া কেন্দ্রীয় সরকারি চাকরিতে শতকরা ৮৫% পশ্চিম পাকিস্তান এবং ১৫% পূর্ব পাকিস্তান থেকে নিয়োগ করা হতো। তাছাড়াও রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, ন্যায়বিচার, সুশাসন, শোষণ-বঞ্চনা ইত্যাদি এইসব বৈষম্য আমরা মেনে নেই নি। আমরা চেয়েছিলাম সমতা। তার জন্যই যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করা করি। এখন লাখো মানুষের আত্মত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীন দেশের চাকরিতেই হরেক রকমের কোটা। তাই বর্তমান সামাজিক অবস্থান থেকে মোটাদাগে একটি প্রশ্ন থেকেই যায় আদো কি আমরা বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছি?


কোটা পদ্ধতি ব্রিটিশ এবং পাকিস্তান আমলের। কিন্তু তা ছিল সীমিত পর্যায়ে উচ্চতর পদেই আর সীমিত আকারে। বাংলাদেশে কোটা পদ্ধতি চালু হয়েছিল ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানের সাময়িক সুবিধার জন্য। কিন্তু পরে তাদের নাতি-নাতনিদের এর আওতায় নিয়ে আসা হয়। পর্যায়ক্রমে চাকরি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রেও কোটার পরিধি বিস্তৃত হয়েছে। সরকারি চাকরিতে যেমন পোষ্য, মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী, নারী, উপজাতিসহ নানা কোটা পরিলক্ষিত হতো।

গতকাল বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলে ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর জারি করা পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন। এর ফলে সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল থাকবে।

শিক্ষাই শক্তি, শিক্ষাই মুক্তি- অর্থাৎ দেশের অগ্রগতির মূল চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করে শিক্ষা। সেই শিক্ষা লাভ করে যখন একজন শিক্ষার্থী চাকরির পরীক্ষায় বসে তখন সরকারি চাকরিতে কোটা ও মেধার অনুপাত ৫৬ বনাম ৪৪ শতাংশ। কোটার বরাদ্দ যথাক্রমে মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পোষ্যদের ৩০ শতাংশ, নারী ১০ শতাংশ, জেলা কোটা ১০ শতাংশ, আদিবাসী ৫ শতাংশ এবং প্রতিবন্ধী ১ শতাংশ। ফলে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের সুযোগ পান মাত্র ৪৪ শতাংশ আর ৫৬% শুধু কোটার ভিত্তিতেই নিয়োগ হবে। 

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আকবর আলি খান বলেছেন, ‘পৃথিবীর এমন কোনো দেশ খুঁজে পাওয়া যাবে না, যেখানে কোটা মেধাকে ছাপিয়ে যেতে পারে। আমরা পারছি। অর্থাৎ উল্টো যাত্রায় আমরাই প্রথম।’ 

স্বাধীনতার ৫৩ বছর পরে ভাবা যায় এটা কী পরিমাণ বৈষম্য! যেকোন চাকরি পরীক্ষায়, বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় কোন যোগ্য প্রার্থীকে বঞ্চিত করে অপেক্ষাকৃত কম যোগ্য কাউকে সুযোগ দেয়াকে আমি সম্পূর্ণরূপে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাথে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক বলে মনে করি।

তবে বাংলাদেশের সব নাগরিকের অধিকার রক্ষা, বৈষম্য নিরসন ও সুযোগের সমতা নিশ্চিতের লক্ষ্যে নারীসমাজ, অনগ্রসর নাগরিক গোষ্ঠী, দুর্গম এলাকার জনগণের জন্য শিক্ষা ও চাকরির ক্ষেত্রে নির্ধারিত যোগ্যতার মাপকাঠি কিছুটা শিথিল করে এবং নির্দিষ্ট সংখ্যক আসন সংরক্ষিত রেখে বিশেষ বিধান রাখা উচিত। 

তাই এই কোটাব্যবস্থা সংস্কার করা এখন সময়ের দাবি। যে বৈষম্যহীন সোনার বাংলা গড়ার জন্য একাত্তর সালে ৩০ লাখ শহীদ জীবন দিয়েছেন, বৈষম্যের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসা কোটাব্যবস্থার জালে পড়ে তার আজ নাভিশ্বাস উঠেছে। এই দুরবস্থার থেকে মুক্তি পেতে হলে আমাদের এমনভাবে কোটাব্যবস্থার পুনর্বিন্যাস করতে হবে। এতে করে মেধাবীরা অর্জন করবে তাদের যোগ্য স্থান। তারাই এগিয়ে নেবে দেশকে। তাই দেশের কল্যাণার্থে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

মোঃ নাজমুল হাসান: শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।

Email: pressnazmulbd@gmail.com

আরও খবর