ক্ষেতলালে গ্রাম আদালত সমন্বয় কর্মশালা অনুষ্ঠিত সৈয়দ হারুন এমজেএফ বাতাকান্দি আদর্শ স্কুল এন্ড কলেজের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন লালপুরের পদ্মার চড়ে স্পিডবোটে মিলল গুলিবিদ্ধ মরদেহ ঋণের চাপ সইতে না পেরে যশোরে যুবকের আত্মহনন কলারোয়ায় সরকারি সম্পত্তি দখল বকশীগঞ্জের দিগলাকোনায় কারিতাস ময়মনসিংহ অঞ্চলের আলোক কোরে-২ প্রকল্পের আয়োজনে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপন বাঁধনহারা পুরস্কার-২০২৬: সম্মাননা পাচ্ছেন ১৪ গুণীজন জামিলার স্বপ্ন এখন দেশসেরা হওয়া প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় জোর: বাতিল হতে পারে ৬ বিষয়ে অনার্স কোর্স সরকার আ.লীগের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধই রাখতে চায়: তথ্য উপদেষ্টা শ্যামনগরে গাবুরা-বুড়িগোয়ালিনী খেয়াঘাটে ভাঙ্গন ভেটখালী ব্রিজ এলাকা থেকে শিশুর নিখোঁজের অভিযোগ শান্তিগঞ্জে বাসের ধাক্কায় বৃদ্ধ নিহত কলারোয়ায় ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান, ২৫ হাজার টাকা জরিমানা নাগেশ্বরীতে ইসলামী ছাত্রশিবিরের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত আশাশুনিতে মাছ ব্যবসায়ীকে ঘিরে বিতর্ক সাংবাদিক জিসান আহমেদ নান্নু ঘাড় ও পিঠের তীব্র ব্যথায় অসুস্থ : দ্রুত সুস্থতায় সকলের দোয়া কামনা নাগেশ্বরী পৌরসভার উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান মেয়র পদপ্রার্থী আজিজুল হকের বরিশালে ২০০ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক আধুনিকতার মুখোশে নৈতিকতার সংকট | রুমানা আক্তার রত্না

কলারোয়ায় সরকারি সম্পত্তি দখল


সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের ধানদিয়া গ্রামে সরকারি রাস্তার জমি দখল করে পাকা ভবন নির্মাণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা এবং আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তরা নির্মাণকাজ অব্যাহত রেখেছেন। এতে জনসাধারণের চলাচলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধানদিয়া গ্রামের বাসিন্দা শেখ খোরশেদ আলী তার নিজস্ব জমির পাশের সরকারি রাস্তার জায়গা দখল করে অবৈধভাবে পাকা ঘর নির্মাণের অভিযোগ এনে জয়নগর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে লিখিত আবেদন করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, রাস্তার নির্ধারিত অংশ দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করায় এলাকার মানুষের স্বাভাবিক যাতায়াত বিঘ্নিত হচ্ছে।

অভিযোগ পাওয়ার পর জয়নগর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার গাইন সরেজমিন তদন্ত পরিচালনা করেন। তদন্ত শেষে ধানদিয়া গ্রামের মো. জহুরুল ইসলাম ও মো. ইউনুছ আলীর বিরুদ্ধে সরকারি রাস্তার জমি দখল করে নির্মাণকাজ পরিচালনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তাদের নামে জরুরি নোটিশ জারি করা হয়। নোটিশে অবিলম্বে নির্মাণকাজ বন্ধ করা এবং ইতোমধ্যে নির্মিত অংশ নিজ খরচে অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

কিন্তু স্থানীয়দের দাবি, ওই নির্দেশনা উপেক্ষা করে অভিযুক্তরা নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। সোমবার (৮ জুন) বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকজন শ্রমিক নির্মাণকাজে ব্যস্ত রয়েছেন। শ্রমিকদের কাছে কাজ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তারা দাবি করেন, আদালতের অনুমতি রয়েছে। তবে আদালতের কোনো লিখিত আদেশ বা নথি তারা দেখাতে পারেননি।

ভূমি অফিসের নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, ধানদিয়া মৌজার জে.এল. নং-১১৭ এর আর.এস. ১ নম্বর খতিয়ানের আর.এস. ১৬১২ নম্বর দাগের ০.০৫ একর সরকারি রাস্তার জমির ওপর এ বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, নির্মাণাধীন স্থাপনাটি সরকারি রাস্তার নির্ধারিত সীমানার মধ্যে পড়েছে।

এদিকে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৮৮ ধারায় দায়েরকৃত মামলা নম্বর পি-৪৫৩/২৬ (কলা) বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। মামলার শুনানিতে সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে আগামী ২৩ জুন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট স্থানে সব ধরনের নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় ইউনুছ আলীর পরামর্শে জহুরুল ইসলাম গত কয়েকদিন ধরে নির্মাণকাজ অব্যাহত রেখেছেন। এ বিষয়ে কলারোয়া থানাকে অবহিত করা হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে তারা অভিযোগ করেন।

অভিযুক্ত ইউনুছ আলী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জমির ম্যাপ প্রস্তুতের সময় ভুলবশত রাস্তার কিছু অংশ তাদের জমির মধ্যে দেখানো হয়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেন যে সরকারি রাস্তার প্রস্থ ১৪ ফুট হওয়া উচিত। কিন্তু বর্তমানে নির্মাণাধীন ভবনের কারণে রাস্তার প্রস্থ কমে যাচ্ছে কি না—এ বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো বক্তব্য দেননি।

এ বিষয়ে জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রওশন আলী গাজী বলেন, সরকারি রাস্তার ওপর স্থাপনা নির্মাণ না করার জন্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে অভিযুক্তদের একাধিকবার সতর্ক করেছেন। কিন্তু তারা কোনো পরামর্শ বা আইনি নির্দেশনা মানছেন না। তিনি অভিযোগ করেন, রাস্তা নিয়ে একাধিকবার সালিশ হলেও তার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অভিযুক্তদের অনীহা রয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের বক্তব্য জানতে কলারোয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। একইভাবে কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জের কাছ থেকেও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় সচেতন মহল ও এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসনকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি আদালতের নির্দেশনা অমান্যের বিষয়টিও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে, যাতে সরকারি রাস্তার স্বাভাবিক ব্যবহার নিশ্চিত হয় এবং জনস্বার্থ ক্ষুণ্ন না হয়।

Tag
আরও খবর




deshchitro-6a27f9bceee0d-090626053212.webp
কলারোয়ায় সরকারি সম্পত্তি দখল

২ ঘন্টা ৩ মিনিট আগে