|
Date: 2025-07-02 18:30:43 |
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৬৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশার অনুরূপ না হওয়ায় বাজেট প্রত্যাখ্যান করে ববিতে বরাদ্দ বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছে গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়।
বুধবার [২ জুলাই) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাউন্ড ফ্লোরে সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (UGC) কাছে স্মারকলিপি পাঠানো হয়।
উক্ত সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগঠক আব্দুর রহমান (আইন বিভাগ), ভূমিকা সরকার (অর্থনীতি বিভাগ ), মৃত্যুঞ্জয় রয় (বাংলা বিভাগ), শওকত ওসমান স্বাক্ষর (আইন বিভাগ ), অ্যাডিসন বৈদ্য ( গণিত বিভাগ)।
গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সংগঠক ভূমিকা সরকার বলেন, সংগ্রামী বন্ধুগণ, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার পক্ষ থেকে আপনাদের সবাইকে বিপ্লবী শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আপনারা জানেন, বিশ্ববিদ্যালয় হলো জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র। কিন্তু আজ আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নানা কারণে পিছিয়ে পড়ছে। শিক্ষাখাত এবং গবেষণা খাতে পর্যাপ্ত বাজেট না থাকায় এই অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন , ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কথাই ধরা যাক সেখানে গবেষণা খাতে বরাদ্দ মাত্র ২%। আমাদের বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণায় বরাদ্দ কোনোদিনই ১.৫% এর উপরে ওঠেনি। চিন্তা করে দেখুন, আমরা বলি বিশ্ববিদ্যালয় মানবিক মানুষ তৈরি করে, গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করে। এখান থেকে যারা বের হবে, তারা সমাজ ও দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।
কিন্তু আমরা বিগত দিনগুলোতে দেখেছি এবং এখনো দেখছি যদি কেউ ভালো একজন গবেষক হতে চায়, তাহলে এই বিশ্ববিদ্যালয় বা এই দেশে তার জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ নেই।
এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য বিশ্ববিদ্যালগুলোর বাজেট বাড়াতে হবে, সেইসঙ্গে দেশের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থার বাজেটও বাড়ানো অত্যাবশ্যক।
বক্তারা আরও বলেন, শিক্ষা একটি রাষ্ট্রের সকল জনগণের মৌলিক অধিকার। এই অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কিন্তু সাম্প্রতিক বাজেটে শিক্ষাকে একটি মৌলিক অধিকার নয়, বরং একটি পণ্যে পরিণত করার রাষ্ট্রীয় দৃষ্টিভঙ্গিই প্রতিফলিত হয়েছে। এই বাজেটের মধ্য দিয়ে শিক্ষা খাতের বেসরকারিকরণ ও বাণিজ্যিকীকরণের নীতিই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। রাষ্ট্র যখন জনগণের শিক্ষার দায়িত্ব নিতে চায়। না, তখনই দেখা যায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বছরের পর বছর অবহেলিত থাকে। অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়েও এ অবহেলার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হয়েছে, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।
© Deshchitro 2024