|
Date: 2025-08-08 20:33:24 |
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছভুক্ত ভর্তি পরীক্ষায় প্রক্সির মাধ্যমে জালিয়াতির অভিযোগে তিনজনকে আটক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আটককৃতরা হলেন– ত্রিশালের ওবায়েত হাসান আফিক, মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান থানার পনির উদ্দিন খান পাভেল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের শিক্ষার্থী সালমান ফারদিন সাজিদ সিয়াম।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভর্তি প্রক্রিয়ার শেষ দিনে সন্দেহজনক আচরণ, স্বাক্ষর ও চেহারার অমিলের ভিত্তিতে প্রথমে আফিককে চিহ্নিত করা হয়। তার সঙ্গে আসা পনির উদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আরও অসঙ্গতি প্রকাশ পায়। এরপর মুঠোফোন তল্লাশিতে ভর্তি লেনদেন সংক্রান্ত হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা, প্রায় ৪০০-৫০০ পরীক্ষার্থীর ছবি এবং বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার এডমিট কার্ড পাওয়া যায়। ফোনে ‘সিয়াম’ নামে কল আসার পর তথ্য সংরক্ষিত থাকা অবস্থায় ফোনটি লক হয়ে গেলে, তা খুলতে অস্বীকৃতি জানায় পনির।
পরবর্তীতে নম্বর ট্র্যাক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ডাটাবেস থেকে শনাক্ত করা হয় সালমান ফারদিন সিয়ামকে, যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থী। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকেও ডাকা হলে, তার মুঠোফোন থেকেও একটি ভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর ওএমআর শিটের ছবি পাওয়া যায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, পুরো ঘটনার পেছনে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য পাঁচ থেকে ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা আনুষ্ঠানিকভাবে রোববার প্রকাশ করা হবে।
ঘটনার বিষয়ে বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এএইচএম কামাল জানান, সিএসই বিভাগে ভর্তি হওয়া ৪০ জনের মধ্যে ৩৯ জন যথাসময়ে ভর্তি সম্পন্ন করলেও, আফিক শেষ দিনে এসে উপস্থিত হন। নিয়মমাফিক যাচাই-বাছাইয়ের সময় তার স্বাক্ষর ও লেখার ধরণ সন্দেহজনক মনে হলে তদন্ত শুরু হয় এবং চক্রটি ধরা পড়ে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের (ভারপ্রাপ্ত) রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান জানান, চক্রটি এর আগেও একজন শিক্ষার্থীকে ভর্তি করাতে সক্ষম হয়েছিল, তার তথ্যও যাচাই করা হচ্ছে।
ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর আহাম্মদ জানিয়েছেন, আটক তিনজনের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে তাদের থানায় হস্তান্তর করা হয় এবং শুক্রবার আদালতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পর জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্র এবং নতুন কেন্দ্রগুলোর পরীক্ষায় নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা ও যাচাই প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রশাসনের ধারণা, সঠিক তদন্তে এই চক্রের আরও শাখা-প্রশাখার সন্ধান পাওয়া যেতে পারে।
© Deshchitro 2024