|
Date: 2025-08-25 22:02:31 |
রোহিঙ্গাদের নিজ মাতৃভূমি মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার অধিকার ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আবারও বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার জানিয়েছে যুক্তরাজ্যসহ ১১টি পশ্চিমা দেশ।
রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার আট বছর পূর্তি উপলক্ষে সোমবার (২৫ আগস্ট) সকালে ঢাকায় ফ্রান্স দূতাবাসের এক্স (সাবেক টুইটার) ও ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে এই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
যুক্তরাজ্য ছাড়াও বিবৃতিতে সই করেছে: অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, ডেনমার্ক, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, ফিনল্যান্ড এবং স্বাগতিক ফ্রান্স।
বিবৃতিতে বলা হয়, “২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে যেসব রোহিঙ্গা প্রাণে বাঁচতে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিলেন, আজ আট বছর পরও তারা দেশে ফিরতে পারেননি। আমরা এখনও কক্সবাজার ও ভাসানচরে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গার মানবিক সংকটের চিত্র দেখছি।”
রোহিঙ্গাদের এই দীর্ঘ অবস্থানের পেছনে বাংলাদেশের উদারতা ও সহনশীলতাকে ধন্যবাদ জানিয়ে দেশগুলো বলেছে, “বাংলাদেশ সরকার ও সাধারণ মানুষের উদারতা ছাড়া এই সংকট সামাল দেওয়া সম্ভব হতো না। এখনও যেসব নতুন রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে আসছে, তাদেরও আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে — এটি বিশ্বে বিরল উদাহরণ।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রোহিঙ্গারা চায় তাদের নিজেদের ঘরে ফিরতে। “আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে তাদের সেই আকাঙ্ক্ষাকে সমর্থন জানাচ্ছি। তবে বর্তমান মিয়ানমার পরিস্থিতি এখনও নিরাপদ, সম্মানজনক ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের উপযোগী নয়।”
রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারে স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ, সহিংসতা বন্ধ এবং মানবাধিকার রক্ষা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে দেশগুলো। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো নিপীড়নের দায়ে জবাবদিহির বিষয়েও অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে তারা।
বিবৃতিতে বলা হয়, “মিয়ানমারে সেনাবাহিনী ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর মানবাধিকার লঙ্ঘনের তীব্র নিন্দা জানাই। দেশটিতে অবাধ মানবিক সহায়তা প্রবেশ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যায়ভাবে আটক সব ব্যক্তিকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।”
রোহিঙ্গাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সমাধান খুঁজে বের করতে তাদের আত্মনির্ভরতা গড়ে তোলার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, “রোহিঙ্গাদের কণ্ঠস্বর ও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে, যাতে বাংলাদেশে অবস্থানকালেও তারা সম্মানজনক জীবনযাপন করতে পারে। একইসঙ্গে স্থানীয় জনগণকেও আমরা সহযোগিতা দিয়ে যাব।”
বিবৃতির মাধ্যমে এই ১১টি দেশ আবারও স্পষ্ট করেছে— রোহিঙ্গা সংকট শুধু বাংলাদেশের নয়, এটি একটি বৈশ্বিক মানবিক ইস্যু। আর সেই ইস্যুতে তারা বাংলাদেশের পাশে থাকতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
© Deshchitro 2024