|
Date: 2025-11-29 21:00:16 |
জামালপুরের ইসলামপুরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পরিচয়ে অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী বিএনপিতে যোগদান করার খবর পাওয়া গেছে।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার কুলকান্দী খানবাড়ীতে আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামী ছেড়ে বিএনপির রাজনীতি করার ঘোষণা দেন তাঁরা। তবে এঘটনাটি অপপ্রচারের অভিযোগ তোলেছেন স্থানীয় জামায়াত নেতারা।
তাঁদের অভিযোগ, জামায়াতে ইসলামীর এখানকার কোনো নেতা-কর্মী বিএনপিতে যোগদান করনেনি। মূলত একটি পক্ষ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফায়দা নিতে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামী ছেড়ে বিএনপির রাজনীতি করার করার ঘোষণা দেন বেশকিছু লোকজন। এ উপলক্ষে যোগদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম খানের সহোদর ছোট ভাই ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম ফরহাদ খান।
যোগদান অনুষ্ঠানের ব্যানারে লেখা হয়, জামালপুর-২ ইসলামপুর আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী শরিফুল ইসলাম খান ফরহাদ ভাইয়ের হাত ধরে কুলকান্দী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামী হতে অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী যোগদান কর্মসূচি ও মতবিনিময় সভা।
বিএনপিতে যোগদানকারী অন্যান্যদের মধ্যে হলেন কুলকান্দী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি এরশাদ খন্দকার, সাধারণ সম্পাদক নাছিম উদ্দিন এবং সহসভাপতি সোনাহার খন্দকার।
প্রধান অতিথি হিসেবে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির দলীয় মনোনয়নবঞ্চিত শরিফুল ইসলাম ফরহাদ খান যোগদানকারীদের গলায় ফুলের মালা পরিয়ে বিএনপিতে বরণ করে নেন।
এসময় বিএনপিতে নব্যযোগদানকারী এরশাদ খন্দকার বলেন, 'আমরা দীর্ঘদিন জামায়াতের রাজনীতি করেছি। এখন বাকি জীবন বিএনপির রাজনীতি করতে চাই। এই জন্য আমরা জামায়াতে ইসলামী ছেড়ে বিএনপিতে যোগদান করলাম।'
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শরিফুল ইসলাম ফরহাদ খান বলেন, 'বিএনপির কার্যক্রমে আস্থা রেখে এবং গণতন্ত্রের স্বাধীনতা পক্ষে থাকার প্রত্যয়ে জামায়াতে ইসলামীর অন্তত অর্ধশত নেতা-কর্মী বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। বিএনপিতে যোগদান সঠিক সময়ে তাঁদের সঠিক সিদ্ধান্ত। এজন্য বিএনপিতে নব্যযোগদানকারীদের ধন্যবাদ জানাই।'
অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক জিএস শফিউল্লাহ বুলবুল, পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু জাহিদ লিটন, কুলকান্দী ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক মাহমুদ হাসান ফিরুজ এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক পনির আহম্মেদ।
এবিষয়ে জামালপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সদস্য অধ্যাপক মাওলানা মো. খলিলুর রহমান বলেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'আমার জানা মতে কুলকান্দী ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামীর
কোনো নেতা-কর্মী বিএনপিতে যোগদান করেনি। তারপরও সেখানকার দায়িত্বশীল নেতারা বিষয়টি ভালো জানেন।'
কুলকান্দী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. আব্দুল মান্নান বলেন, 'যাঁরা বিএনপিতে যোগদান করেছেন, তাঁরা আমাদের দলের কেউ নন। তবে জুলাই-আগষ্টে সরকার পতনের পর তাঁদের মধ্যে কয়েকজন জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি করতে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলো। কিন্তু সন্তোষজনক কাজ না করায় তাঁদেরকে দলের কমিটিতে নেওয়া হয়নি।'
উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদের সদস্য মাওলানা মো. আমজাদ হোসেন বলেন, 'আমাদের কোনো নেতা-কর্মী বিএনপিতে যোগদান করনেনি। মূলত একটি পক্ষ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফায়দা নিতে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এটাকে নিন্দা জানাচ্ছি।'
এবিষয়ে যোগদান অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি শরিফুল ইসলাম ফরহাদ খান বলেন, 'যাঁরা জামায়াতে ইসলামী ছেড়ে বিএনপিতে যোগদান করেছেন তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।'
বিএনপিতে যোগদানকারী এরশাদ খন্দকার বলেন, 'আমরা দীর্ঘদিন জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। বিএনপিতে যোগদান করেছি।'
© Deshchitro 2024