একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িতদের চিহ্নিত করে বিচারের মাধ্যমে শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম।

রোববার (১৪ ডিসেম্বর) শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, শহিদ বুদ্ধিজীবীদের প্রকৃত সংখ্যা আজও নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। চারবার তালিকা প্রকাশের পরও সঠিক সংখ্যা নিরূপণ করা যায়নি। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, শহিদ বুদ্ধিজীবীদের সংখ্যা ৫৬০ জন।

তিনি আরও বলেন, “যারা এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ছিল, তাদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব।”

উপাচার্য বলেন, বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস ততদিন স্মরণ করা হবে। চূড়ান্ত বিজয়ের মাত্র দুই দিন আগে এ দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছিল। শুধু ১৪ ডিসেম্বর নয়, মুক্তিযুদ্ধের দীর্ঘ নয় মাসজুড়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে যোগ্য ও মেধাবী ব্যক্তিদের দেশীয় দোসর ও আন্তর্জাতিক শক্তির সহায়তায় হত্যা করা হয়।

তিনি বলেন, “শহিদ বুদ্ধিজীবীরা বেঁচে থাকলে দেশ আরও অনেক দূর এগিয়ে যেত। তাদের সেই শূন্যতা আজও পূরণ হয়নি। শহিদ বুদ্ধিজীবীদের চেতনা ধারণ করে বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে পারলেই তাদের আত্মত্যাগ সার্থক হবে।”

এর আগে শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করা হয়। এ সময় কালো ব্যাজ ধারণ করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলমসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী কালো পতাকা উত্তোলন করেন।

অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে শহিদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ‘চির উন্নত মম শির’ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন উপাচার্য, শিক্ষক সমিতি এবং বিভিন্ন হলের প্রভোস্টরা।

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী এবং ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাখাওয়াত হোসেন সরকার। স্বাগত বক্তব্য রাখেন রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান। সভায় সভাপতিত্ব করেন শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এ এইচ এম কামাল।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024