|
Date: 2026-01-07 14:23:28 |
যশোর সদর উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নে উন্নয়নের নামে চলছে বিনাশী কর্মকাণ্ড। পুকুর খননের আইনি আড়ালে ফসলি জমির বুক চিরে চলছে মাটি বিক্রির রমরমা বাণিজ্য। ইউনিয়নের ছোট ও বড় গোপালপুর গ্রামে গত এক সপ্তাহ ধরে চলা এই ‘মাটি উৎসবের’ কারণে এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে জনগুরুত্বপূর্ণ কোটি টাকার পিচঢালা সড়ক।সরেজমিনে ওই এলাকায় পা রাখলেই চোখে পড়ে উন্নয়নের ক্ষত। ভেকু দিয়ে মাটি কেটে শত শত ড্রাম ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তার ওপর পড়ছে মাটির স্তূপ।পুরো গোপালপুর এলাকা এখন ধুলোর কুয়াশায় আচ্ছন্ন। সাধারণ মানুষের শ্বাস নেওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছে।ভারী ট্রাক চলাচলের চাপে পিচঢালা সড়কটি এখন ভেঙে চুরমার। এলাকাবাসী বলছেন, কোটি টাকার সরকারি সম্পদ গুটিকয়েক মানুষের পকেট ভরার জন্য নষ্ট হতে পারে না।প্রভাবশালী চক্রের ভয়ে অনেকে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।অভিযোগ আছে, কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে শাসানো হচ্ছে।
অভিযুক্তের কাঠগড়ায় থাকা স্থানীয় মো. বাবুর দাবি, তিনি নিজের জমিতেই পুকুর কাটছেন। তবে সরকারি কোনো দপ্তর থেকে মাটি কাটা বা পরিবহনের অনুমতি তিনি দেখাতে পারেননি। স্থানীয়দের ভাষায়, এটি কোনো ব্যক্তিগত প্রয়োজন নয়, বরং কয়েক লাখ টাকার মাটি বিক্রির সুপরিকল্পিত সিন্ডিকেট। তারা আক্ষেপ করে বলেন, "বাবু রাস্তা পরিষ্কারের কথা বললেও ধুলোবালি ও কাদা ছিটিয়ে গ্রামটাকে নরক বানিয়ে ফেলেছেন।"সম্প্রতি জনরোষের মুখে পাঁচবাড়িয়া ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তবে মজার ব্যাপার হলো, অভিযানকারী দল পৌঁছানোর আগেই খবর পেয়ে ট্রাক ও ভেকু সরিয়ে ফেলে মাটি খেকোরা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কাজ বন্ধের কড়া নির্দেশ দেওয়া হলেও এলাকাবাসীর শঙ্কা—কর্মকর্তারা চলে যাওয়ার পরই আবারও শুরু হবে এই ‘লুকোচুরি খেলা’।ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা দ্রুত সংস্কার এবং মাটি কাটা চিরতরে বন্ধের দাবি জানিয়েছেন ছোট ও বড় গোপালপুরের বাসিন্দারা। তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, অবিলম্বে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া না হলে এবং রাস্তা চলাচলের উপযোগী না করা হলে তারা বড় ধরনের আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন।
© Deshchitro 2024