বাঘারপাড়া উপজেলার রাজনীতির এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আবু তাহের সিদ্দিকীর শেষ বিদায়ে জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল স্থানীয় পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ। আজ রবিবার বাদ জোহর হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই জানাজায় প্রিয় নেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে আসা মানুষের চোখে ছিল কান্নার জল আর মুখে ছিল তাঁর গুণকীর্তন।

জানাজার পূর্বে মরহুমের জীবন ও কর্মের ওপর আলোকপাত করতে গিয়ে রাজনীতিক ও প্রশাসনের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গ আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী নাজিম উদ্দীন আল আজাদ থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলার শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ একবাক্যে স্বীকার করেন যে, আবু তাহের সিদ্দিকী ছিলেন দল-মত নির্বিশেষে সবার আস্থার প্রতীক। দরাজহাট ইউনিয়ন থেকে শুরু করে উপজেলা পরিষদের দায়িত্ব পালনকালে তিনি যে উন্নয়ন ও সেবার স্বাক্ষর রেখে গেছেন, তা বাঘারপাড়াবাসীর হৃদয়ে অম্লান থাকবে।দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতার সাথে লড়াই করছিলেন এই অকুতোভয় নেতা। তিন বছর আগে কিডনি প্রতিস্থাপন করা হলেও গত শুক্রবার দুপুরে খুলনার একটি হাসপাতালে তাঁর জীবনাবসান ঘটে। প্রবাসে থাকা একমাত্র সন্তানের অপেক্ষায় দাফনের সময় কিছুটা পিছিয়ে আজ সম্পন্ন করা হয়। জানাজা শেষে তাঁকে তাঁর আপন ভূমি মহিরণ গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে শান্তিতে শায়িত করা হয়েছে।

মরহুমের জানাজায় ইমামতি করেন তাঁর মেজ ভাই মাওলানা হায়দার আলী। শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হয়েছিলেন: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি মনোনীত পদপ্রার্থী মতিয়ার রহমান ফারাজী,বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত পদপ্রার্থী অধ্যাপক গোলাম রসুল,বাঘারপাড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মশিউর রহমান,নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নাজমুল লস্কর,ইঞ্জিনিয়ার টি. এস. আইয়ুব ও জেলা বিএনপি সভাপতি অ্যাডভোকেট সাবেরুল হক সাবু অসংখ্য নেতাকর্মী । স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি হিসেবে এসিল্যান্ড ও থানার ওসি।সাবেক সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এবং বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান ও সাবেক চেয়ারম্যানবৃন্দ। বাঘারপাড়ার রাজনীতির ময়দান হয়তো নতুন নেতা পাবে, কিন্তু আবু তাহের সিদ্দিকীর মতো দরাজ মনের মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে। তাঁর এই প্রস্থান উপজেলার অপূরণীয় এক ক্ষতি।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024