|
Date: 2026-02-28 10:41:06 |
বসন্তের আগমনে রংপুরের প্রকৃতিতে এখন আমের মুকুলের মৌ মৌ ঘ্রাণ। জেলা শহর ছাড়িয়ে আশেপাশের বিভিন্ন উপজেলা ও গ্রামগুলোতে এখন সোনালীতে ছেয়ে গেছে আম বাগান। গাছে গাছে মুকুলের এমন ব্যাপক সমারোহ দেখে এ বছর আমের বাম্পার ফলনের আশা করছেন স্থানীয় বাগান মালিক ও চাষিরা।
সরেজমিনে রংপুরের বিভিন্ন উপজেলা ও আশেপাশের এলাকাগুলো ঘুরে দেখা যায়, ছোট-বড় প্রায় প্রতিটি গাছেই উপচে পড়া মুকুল এসেছে। আবহাওয়া এখন পর্যন্ত অনুকূলে থাকায় এবং গত কয়েক দিনের মিষ্টি রোদে মুকুলের সজীবতা দেখে বাগান মালিকদের চোখে-মুখে এখন হাসির ঝিলিক। গত বছরের তুলনায় এবার মুকুলের পরিমাণ অনেক বেশি হওয়ায় বড় ধরনের লাভের স্বপ্ন বুনছেন তারা।
স্থানীয় চাষিরা জানান, শীতের প্রকোপ কাটিয়ে মুকুল আসার এই সময়ে তারা গাছের বাড়তি যত্ন নিচ্ছেন। মুকুল যেন ঝরে না পড়ে এবং কুয়াশায় ক্ষতি না হয়, সেজন্য কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী ছত্রাকনাশক ও কীটনাশক স্প্রে করছেন। তারা আশা করছেন, যদি বড় কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয় বা শিলাবৃষ্টি না হয়, তবে এবার রেকর্ড পরিমাণ আম উৎপাদন হবে।
স্থানীয় এক আম চাষি জানানএবার আমাদের এই অঞ্চলের প্রায় সব উপজেলাতেই মুকুল খুব ভালো এসেছে। ডালগুলো মুকুলের ভারে নুয়ে পড়ছে। আমরা দিনরাত পরিশ্রম করছি যাতে মুকুলগুলো গুটিতে রূপান্তরিত হয়। ফলন ভালো হলে এবার বাজারে আমের দামও ভালো পাওয়ার আশা করছি।"
আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, এ বছর মুকুল আসার জন্য আবহাওয়া বেশ উপযোগী ছিল। বিশেষ করে রংপুরের বিখ্যাত 'হাড়িভাঙ্গা' আমসহ অন্যান্য জাতের গাছে ব্যাপক মুকুল এসেছে। পোকার আক্রমণ ও রোগবালাই রোধে চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সঠিক ব্যবস্থাপনা বজায় থাকলে এবার আমের ফলন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে তারা মনে করছেন।
রংপুর ও এর আশেপাশের জনপদে আমের এই ব্যাপক সমারোহ এখন কেবল কৃষির সাফল্য নয়, বরং পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির এক নতুন ইঙ্গিত দিচ্ছে।
© Deshchitro 2024