|
Date: 2026-03-04 00:48:28 |
টাঙ্গাইলের মধুপুর গড়ের লাল মাটিতে এবার নতুন ফসলের সম্ভাবনা দেখালেন কৃষক ছানোয়ার হোসেন। প্রচলিত ধান, আনারস কিংবা সবজির বাইরে গিয়ে কফি চাষে সফল হয়ে তিনি স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। তার এই উদ্যোগ মধুপুর অঞ্চলের কৃষিতে নতুন দিগন্তের ইঙ্গিত দিচ্ছে।কয়েক বছর আগে পরীক্ষামূলকভাবে নিজের জমিতে কফি চাষ শুরু করেন ছানোয়ার হোসেন। প্রথম দিকে অনেকেই বিষয়টি নিয়ে সন্দিহান ছিলেন। পাহাড়ি অঞ্চল ছাড়া কফি চাষ সম্ভব নয়-এমন ধারণাই ছিল সাধারণ মানুষের। তবে মধুপুরের লাল মাটি ও আবহাওয়ার সঙ্গে কফি গাছের সামঞ্জস্য দেখে তিনি আশাবাদী হয়ে ওঠেন এবং ধীরে ধীরে চাষের পরিধি বাড়ান। ছানোয়ার হোসেন জানান, কফি চাষে সঠিক পরিকল্পনা ও নিয়মিত পরিচর্যা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী ছায়াযুক্ত স্থানে কফির চারা রোপণ করেন। গাছের গোড়ায় জৈব সার ব্যবহার, সঠিক পানি নিষ্কাশন এবং রোগবালাই প্রতিরোধে বিশেষ নজর রাখেন। এসব কারণেই কফি গাছগুলো দ্রæত বেড়ে ওঠে এবং ফলন দিতে শুরু করে।
মহিষমারা ইউিনয়েনর কৃষি পদকপ্রাপ্ত কৃষক ছানোয়ার হোসেন জানান, গত বছর ৫০ শতাংশ জমিতে চাষ করে এক লক্ষ টাকার মতো পেয়েছিলেন। এ বছর আবহওয়া অনুকুলে না থাকায় তেমন ফলন ভালো হয়নি। বর্তমানে তার বাগানে সারি সারি কফি গাছে ফল ধরেছে। কফি চেরির লাল রঙে পুরো বাগান এক মনোরম দৃশ্যে পরিণত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে উৎপাদিত কফি স্থানীয় বাজারে ভালো সাড়া পাচ্ছে। ভবিষ্যতে কফি প্রক্রিয়াজাত করে প্যাকেটজাত করার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান তিনি
।মধুপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, লাল মাটির অম্লীয় প্রকৃতি কফি চাষের জন্য উপযোগী। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা পেলে এই অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে কফি চাষ সম্প্রসারণের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। ছানোয়ার হোসেনের সাফল্য দেখে ইতোমধ্যে আরও কয়েকজন কৃষক কফি চাষে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, কফি চাষ লাভজনক একটি ফসল হতে পারে। তুলনামূলকভাবে একবার বাগান তৈরি করলে দীর্ঘ সময় ধরে ফলন পাওয়া যায়, যা কৃষকের আয়ের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে পারে। বিশেষ করে তরুণ কৃষকদের জন্য এটি হতে পারে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ।
ছানোয়ার হোসেন বলেন, এবছর জমিতে চাষ করেছি ৬৫ শতাংশ। তার মধ্যে মোটামুটি সন্তষজনক ফলন পেয়েছি। আমাদের মধুপুরের মাটি অনেক সম্ভাবনাময়। শুধু ধান বা প্রচলিত ফসলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। নতুন কিছু করতে না পারলে কৃষি এগোবে না। তিনি আরও বলেন, সরকারি সহযোগিতা ও সহজ শর্তে ঋণ পেলে আরও বড় পরিসরে কফি চাষ সম্প্রসারণ সম্ভব। মধুপুরে কফি চাষে কৃষক ছানোয়ার হোসেনের এই সাফল্য প্রমাণ করে, সাহসী উদ্যোগ ও পরিশ্রম থাকলে নতুন ফসলও কৃষকের ভাগ্য বদলাতে পারে। লাল মাটির এই জনপদে কফি চাষ ভবিষ্যতে একটি সম্ভাবনাময় কৃষি খাত হিসেবে গড়ে উঠবে-এমনটাই আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
© Deshchitro 2024