|
Date: 2026-04-21 23:00:06 |
যশোরের শার্শায় মিথ্যা ও ষড়যন্ত্র মূলক মামলা দিয়ে আপন ভাই ও একাধিক প্রতিবেশীদেরকে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দা আফরোজা খাতুন নামে এক মামলাবাজ নারীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ৮ নং বাগআঁচড়া ইউনিয়নের বসতপুর গ্রামে। তার মিথ্যা মামলা থেকে রেহাই পাননি মসজিদের ইমাম, বৃদ্ধ নারী, নিজের আপন সহধর ভাইসহ বসতপুর গ্রামে একাধিক নিরপরাধ সাধারণ মানুষ।
জানা গেছে, আফরোজা খাতুন বিনা অপরাধে মিথ্যা মামলা দিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে মহল্লার অসহায় মহিলাদের দিয়ে রান্নাবান্নাসহ জোরপূর্বক বাড়ির কাজ করিয়ে নেন। শুধু তা-ই নয় আফরোজা খাতুন সংসার জিবনে বিয়ে করেছেন ৪ টি, কিন্তু সাংসার করেননি একটিও। স্বামীদের অভিযোগ আফরোজা খাতুন কাবিনের মোটা অংকের টাকা বাগিয়ে নিতে একাধিক বিয়ে করেছেন।
কথা হয় আফরোজার দ্বিতীয় স্বামী নাসির উদ্দীনের সাথে’ তিনি জানান, আফরোজার সাথে তার বিয়ে হয়েছিল ২০০৩ সালে, আর ডিভোর্স হয় ২০২৩ সালে। তিনি অভিযোগ করেন আফরোজা খাতুন বিভিন্ন সময়’ বিভিন্ন কৌশলে তার ৪ বিঘা জমি আফরোজার নিজের নামে লিখে নেন। পরবর্তীতে ঐ জমি গোপনে বিক্রি করে সমস্ত টাকা আত্মসাৎ করেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বসতপুর এলাকায় প্রায় ১৫০ জন প্রতিবেশীর নামে আফরোজা খাতুন বিভিন্ন সময় মামলা করেছেন। বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের শাসন আমলে প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের দিয়ে প্রভাব খাটিয়ে এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেছেন। বর্তমানেও তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনের বিভিন্ন ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে প্রতিবেশীদের নিয়মিত হুমকি-ধামকি ও ভয়-ভীতি দেখাচ্ছেন।
অভিযুক্ত আফরোজা আক্তার বলেন, ৯০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত তার পরিবারের সদস্যদের সাথে জমি-জায়গা নিয়ে বিরোধ চলছে। তৎকালীন এসপি, ডিসি, সবাই বিষয়টি যানতেন। বর্তমানে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ও তার “মা” নার্গিস বেগমসহ স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ অবগত রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ শুধু মিথ্যা না, পরিকল্পিত মিথ্যা বলে তিনি দাবি করেন।
এবিষয়ে নাভারণ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আরিফ হোসেন বলেন, জমি জায়গা সংক্রান্ত যে অভিযোগ উঠেছে, তার অধিকাংশেরই কোন ভিত্তি পাওয়া যায়নি। তারপরও আফরোজা খাতুন নামে নারী এসব সম্পত্তির দাবি করছেন। প্রাথমিক তদন্তে জেনেছি আফরোজা খাতুন নামের মহিলাটি ঝগড়াটে প্রকৃতির, তিনি অহেতুক বিভিন্ন সময়ে সধারণ মানুষের নামে মামলা দিয়ে হয়রানির করেন। তাই যাতে সমাজে আইন-শৃঙ্খলার অবনতির মতো ঘটনা না ঘটে, তার জন্য আমরা সতর্ক আছি।
এলাকাবাসীর দাবি, প্রশাসন বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করলে স্বস্তি ফিরে আসবে এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে।
© Deshchitro 2024