বরিশালে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোচিং নির্ভরতা নিয়ে উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। অনেক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, কোচিং সেন্টারে নিয়মিত পড়াশোনা না করলে পরীক্ষায় ভালো ফল করা কঠিন হয়ে পড়ছে।


শহরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা জানায়, শ্রেণিকক্ষে অনেক সময় পাঠ সম্পূর্ণভাবে বোঝানো হয় না। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সংক্ষিপ্তভাবে পড়িয়ে কোচিংয়ে বিস্তারিতভাবে শেখানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে কোচিংয়ে অংশগ্রহণ না করলে শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়ছে। ১০ম শ্রেণির মোসাঃ সুমাইয়া আক্তার এক শিক্ষার্থী বলেন, “ক্লাসে সবকিছু পরিষ্কারভাবে বোঝানো হয় না। কোচিংয়ে গেলে আলাদা গুরুত্ব দিয়ে পড়ানো হয়। তাই কোচিং না করলে ভালো ফল করা কঠিন।”


অভিভাবকদের মতে, এই প্রবণতার কারণে শিক্ষা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এটি বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি করছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে সন্তানদের কোচিংয়ে পাঠাচ্ছেন, যদিও তা তাদের সাধ্যের বাইরে। এ বিষয়ে শিক্ষকদের একটি অংশ জানান, তারা নিয়মিত ক্লাসে পাঠদান করেন। তবে শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত অনুশীলনের জন্য কোচিং সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের পরিস্থিতি শিক্ষাব্যবস্থার জন্য অশনিসংকেত।


তারা বলেন, শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের মানোন্নয়ন, শিক্ষকদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং কোচিং বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। সচেতন মহল বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে সব শিক্ষার্থী সমান সুযোগে মানসম্মত শিক্ষা লাভ করতে পারে।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024