|
Date: 2026-06-14 17:20:46 |
দৌলতদিয়ায় পদ্মার তীব্র ভাঙন, আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষ
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া এলাকায় পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙন নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে দৌলতদিয়া ১, ২ ও ৩ নম্বর ফেরিঘাট সংলগ্ন এলাকায় ভাঙন দেখা দেওয়ায় নদীতীরবর্তী বসতবাড়ি, স্থাপনা এবং স্থানীয় জনজীবন হুমকির মুখে পড়েছে। ভাঙনের কারণে নদীপাড়ের বাসিন্দারা চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
রবিবার (১২ জুন) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দৌলতদিয়া ১, ২ ও ৩ নম্বর ফেরিঘাটের বিভিন্ন অংশে নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে। কোথাও কোথাও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে পাড়ের মাটি। এতে নদীর কাছাকাছি বসবাসকারী পরিবারগুলো নিজেদের ঘরবাড়ি হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. মমিন মণ্ডল বলেন, “আমাদের বাড়ি নদীর খুব কাছেই। রাতে ঘুমাতে গেলেও ভয় লাগে, এই বুঝি ঘর নদীতে চলে গেল। সব সময় আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হচ্ছে। দ্রুত নদীশাসনের ব্যবস্থা করে আমাদের বসতবাড়ি রক্ষা করা হোক।”
আরেক বাসিন্দা মোছা. আকলিমা বেগম বলেন, “আমরা গরিব মানুষ, আমাদের দেখার যেন কেউ নেই। কয়েক দফা ভাঙনের কারণে আগেই অনেক ক্ষতির মুখে পড়েছি। এখন আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। শুধু আশ্বাস শুনি, কিন্তু ভাঙন রোধে কার্যকর কোনো কাজ চোখে পড়ছে না। সব সময় ভয় হয়, কখন আমাদের ঘরবাড়িও নদীতে চলে যায়।”
স্থানীয় বাসিন্দা রোজিনা আক্তার বলেন, “নদীভাঙনের কারণে আমরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি। সন্তানদের নিয়ে নিরাপদে থাকার কোনো নিশ্চয়তা নেই। দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে অনেক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
এ বিষয়ে দৌলতদিয়া ঘাট শাখার বিআইডব্লিউটিসির ব্যবস্থাপক সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, “দৌলতদিয়া ফেরিঘাট দীর্ঘদিন ধরেই ভাঙনপ্রবণ এলাকা। প্রায় প্রতিবছরই এখানে নদীভাঙন দেখা দেয়। বর্তমানে ৩ নম্বর ফেরিঘাটের পেছন দিকেও ভাঙন শুরু হয়েছে। বিষয়টি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সম্প্রতি জেলা প্রশাসকও ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো দ্রুত প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে বলে আশা করছি। বর্তমানে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং তা অব্যাহত থাকবে।”
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাশ বলেন, “নদীভাঙনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কারিগরি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।”
রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সুব্রত কুমার জানান, তারা দৌলতদিয়া লঞ্চ ও ফেরিঘাট সহ গোয়ালন্দের পদ্মানদী তীরবর্তী অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে কাজের জন্য উর্ধতন কতৃপক্ষকে ইতিমধ্যে অবহিত করেছেন। অনুমোদন পেলে কাজ করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, দৌলতদিয়া এলাকার নদীভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে ফেরিঘাট, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং শত শত পরিবারের বসতভিটা হুমকির মুখে পড়তে পারে। তাই দ্রুত নদীশাসন ও তীররক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
© Deshchitro 2024