|
Date: 2026-06-14 22:02:15 |
সাতক্ষীরার সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক লায়লা পারভীন সেঁজুতিকে নতুন একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার (শোন অ্যারেস্ট) দেখিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (১৪ জুন) সাতক্ষীরা অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক বিলাস মণ্ডল মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ প্রদান করেন। আদালতের এ সিদ্ধান্তের ফলে অন্যান্য মামলায় জামিন পাওয়ার পরও আপাতত কারামুক্তি পাচ্ছেন না সাবেক এই সংসদ সদস্য।
আদালত সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরা সদর থানায় দায়ের হওয়া একটি হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে আবেদন করে লায়লা পারভীন সেঁজুতিকে মামলায় শোন অ্যারেস্ট দেখানোর অনুরোধ জানান। আদালত আবেদন মঞ্জুর করলে আসামি পক্ষ তার পক্ষে জামিন আবেদন করেন। উভয় পক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
সাবেক এমপি সেঁজুতির আইনজীবী অ্যাডভোকেট আল মাহামুদ জানান, বিভিন্ন মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন লাভ করার পর তার মুক্তির প্রক্রিয়া চলছিল। তবে ২০২৫ সালে দায়ের হওয়া একটি হত্যা মামলায় নতুন করে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এ মামলায় জামিন চাওয়া হলেও আদালত তা গ্রহণ করেননি।
মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর গ্রামের মৃত অহেদ আলীর স্ত্রী পারুল বেগম (৪৭) আদালতে একটি নালিশি মামলা দায়ের করেন। পরে আদালত অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গণ্য করে সাতক্ষীরা সদর থানাকে তা নিয়মিত মামলা (এফআইআর) হিসেবে রেকর্ড করার নির্দেশ দেন।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের ২৬ মার্চ দিবাগত রাতে এজাহারভুক্ত ৪৭ জন এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জন ব্যক্তি সংঘবদ্ধভাবে বাদীর বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর, লুটপাট এবং পরিবারের সদস্যদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া অভিযোগে বলা হয়, হামলার সময় বাদীর স্বামী অহেদ আলীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরদিন সকালে বাড়ির নিকটবর্তী একটি আমবাগান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই হত্যা মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।
মামলায় সাবেক এমপি লায়লা পারভীন সেঁজুতির পাশাপাশি সাতক্ষীরার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মীর্জা সালাউদ্দীন, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তৎকালীন ওসি মহিদুল ইসলাম, সদর থানার তৎকালীন ওসি মো. আসাদুজ্জামানসহ মোট ৪৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২০ মে সাতক্ষীরা শহরের রাধানগর এলাকায় নিজ বাসভবন থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সাবেক এমপি লায়লা পারভীন সেঁজুতিকে গ্রেপ্তার করেন। এরপর বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর তিনি একাধিক মামলায় জামিন লাভ করলেও নতুন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হওয়ায় আপাতত তার মুক্তির পথ স্থগিত হয়ে গেছে।
© Deshchitro 2024