সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার খোলপেটুয়া নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ১ লাখ টাকা জরিমানা এবং দুই ব্যক্তিকে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত একটি কার্গো বোট (বাল্কহেড) জব্দ এবং পাইপলাইন ধ্বংস করা হয়েছে।

রবিবার (১৪ জুন) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে নীলডুমুর ব্যাটালিয়ন (১৭ বিজিবি) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে খোলপেটুয়া নদীর ঝাঁপার চর এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় এম বি হাবিব নামের একটি কার্গো বোট জব্দ করে।

বিজিবি সূত্র জানায়, হাবিলদার জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি টহল দল দুর্গাবাটি মন্দির সংলগ্ন ঝাঁপার চর এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাল্কহেডটি আটক করে। পরে সেটিকে নীলডুমুর ব্যাটালিয়ন (১৭ বিজিবি)-এর সদর পল্টন ঘাটে নিয়ে আসা হয়।

জব্দকৃত বাল্কহেডে প্রায় ৫ হাজার ৩শ ঘনফুট বালু পাওয়া যায়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৬৭ হাজার ২০০ টাকা। প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, কোনো বৈধ অনুমতি ছাড়াই নদী থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল।

পরে শ্যামনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রায়ের হোসাইন ঘটনাস্থলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। আদালত বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

আদালত অভিযুক্ত নজরুল ইসলামকে ১০ দিনের এবং আক্তারুর জামানকে ১৪ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়। এ ঘটনায় ৩২/২৬ নম্বর মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এছাড়া অবৈধ বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত সাতটি পিভিসি পাইপ ফাটিয়ে আগুন দিয়ে ধ্বংস করা হয়, যাতে ভবিষ্যতে একই ধরনের অপরাধ সংঘটিত না হতে পারে।

আইনি প্রক্রিয়া শেষে দুপুর আড়াইটার দিকে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের শ্যামনগর থানায় হস্তান্তর করা হয়।

নীলডুমুর ব্যাটালিয়ন (১৭ বিজিবি)-এর হাবিলদার বিল্লাল হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত ও নদীপথে অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024