নবীন শিক্ষার্থীদের আগমনে মুখরিত হয়ে উঠেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাস। ১৭৫ একরের এই সবুজ ক্যাম্পাস সারা বছরই নানা সাংস্কৃতিক আয়োজনে প্রাণবন্ত থাকলেও আজ সকাল থেকে নবীনদের পদচারণায় তার সৌন্দর্য যেন বহুগুণ বেড়ে গেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজারো শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম এই বিদ্যাপীঠ এখন প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৬ বিভাগের মধ্যে প্রায় সকল বিভাগ বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে বরণ করে নেয় তাদের।
আজ সোমবার (১১ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় প্রতিটি বিভাগ নিজস্ব আয়োজনে নবীনবরণ অনুষ্ঠান আয়োজন করে। সরেজমিনে দেখা যায়, শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ফুল, কলম, মিষ্টি, খাবার ও ব্যাগ উপহার দিয়ে নবীনদের বরণ করে নিচ্ছেন। বিভিন্ন বিভাগের সামনে আলপনা ও পোস্টার সজ্জায় নবীনদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। এ উপলক্ষে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, ইংরেজি বিভাগ, লোক প্রশাসন বিভাগ, আইন ও ভূমি ব্যবস্থাপনা বিভাগ, আইন বিভাগ, হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগ, আল ফিকহ এন্ড ল বিভাগ, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইন্জিনিয়ারিং বিভাগ, আইসিটি বিভাগ, মার্কেটিং বিভাগ, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগসহ প্রায় প্রতিটি বিভাগই ছোট-বড় এবং মনোমুগ্ধকর আয়োজন করে।
ক্যাম্পাসের ঝাল চত্বর, ডায়না চত্বর, টিএসসি, বটতলা, লেকপাড়, ক্রিকেট ও ফুটবল মাঠে নবীনদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। তারা দলবদ্ধ হয়ে একে অপরের সঙ্গে ও সিনিয়রদের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছিলেন। সিনিয়ররা নবীনদের ক্যাম্পাসের শৃঙ্খলা ও নিয়মনীতি সম্পর্কে পরামর্শ দেন। অনেকে আবার গান, আড্ডা ও ঘোরাঘুরিতে মেতে ওঠেন।
প্রথম দিনে কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো নবীনবরণ অনুষ্ঠান না থাকলেও ভোর থেকেই শিক্ষার্থীরা দলে দলে ক্যাম্পাসে আসতে থাকেন।
পরিসংখ্যান ও তথ্য বিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থী সুমনা ইয়াসমিন নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, “আমি চুয়াডাঙ্গা থেকে এই ক্যাম্পাসে এসেছি। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আমার অনেক স্বপ্ন ছিল। এর আগে ভর্তির জন্য এসেছিলাম, কিন্তু আজ এখানে এসে সত্যিই ভালো লাগছে। আসলে এই বিষয়ে আমার আগে কোনো অভিজ্ঞতা নেই, তবে জানার প্রবল ইচ্ছা আছে। আমি বিষয়টি ভালোভাবে শিখে দেশের বাইরে উচ্চশিক্ষা নিতে চাই এবং নিজের দক্ষতাও বাড়াতে চাই। আজ নতুন হিসেবে সবকিছু মিলিয়ে আমি আনন্দিত, আর সামনে আরও অনেক কিছু জানার ইচ্ছা আছে। সব মিলিয়ে আমি খুবই খুশি।”
আল কুরআন বিভাগের এক নবীন শিক্ষার্থী বলেন, “আজকের নবীনবরণ অনুষ্ঠানটি দারুণ ছিল। গিফট পেয়ে আমরা খুব খুশি হয়েছি। ছায়াঘেরা সবুজ ক্যাম্পাস দেখে মন ভরে গেছে।”
আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, “আমরা যদি আমাদের ভবিষ্যৎকে উন্নত করতে চাই এবং লক্ষ্যে পৌঁছাতে চাই, তাহলে প্রথমেই আমাদের সময়কে গুরুত্ব দিতে হবে। সময়ের সাথে পরিকল্পনা করে এগোতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় আগের যেকোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চেয়ে ভিন্ন। তোমরা প্রাইমারি, হাইস্কুল, মাদ্রাসা, হায়ার সেকেন্ডারি-এসব ধাপ অতিক্রম করে এখানে পৌঁছেছো। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে সবসময় নতুন কিছু চিন্তা করবে এবং নতুনত্ব বের করার চেষ্টা করবে।
এই পৃথিবী হলো প্রতিযোগিতার মঞ্চ-তোমরা প্রত্যেকেই একজন প্রতিযোগী। তাই শুরুটা হতে হবে দৃঢ় ও ইতিবাচক। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম মূল লক্ষ্য হলো ইসলামী শিক্ষা ও আধুনিক শিক্ষার মধ্যে সমন্বয় সাধন। আমরা সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছি।"
৭ ঘন্টা ২৪ মিনিট আগে
৭ ঘন্টা ৫০ মিনিট আগে
৭ ঘন্টা ৫৫ মিনিট আগে
৮ ঘন্টা ৫৪ মিনিট আগে
৮ ঘন্টা ৫৫ মিনিট আগে
৯ ঘন্টা ৪১ মিনিট আগে
৯ ঘন্টা ৫১ মিনিট আগে