শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার ভারত সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন পর আবারও দেখা মিলেছে বন্য হাতি। খাদ্যের সন্ধানে গারো পাহাড় থেকে লোকালয়ে নেমেছে একটি হাতির দল। মানুষের কৌতূহলও বেড়েছে—প্রতিদিনই সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন স্থানে ভিড় জমাচ্ছে উৎসুক জনতা। তবে বন বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসন সতর্ক করে বলেছে, হাতির কাছাকাছি গিয়ে ঝুঁকি নেওয়া বিপজ্জনক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার রাত থেকে নলকুড়া ইউনিয়নের সন্ধ্যাকুড়া, হলদীগ্রাম, গুমড়া, রাংটিয়া এবং কাংশা ইউনিয়নের ছোট-বড় গজনী ও তাওয়াকুচা এলাকায় ৪৫ থেকে ৫৫টি হাতির দল অবস্থান করছে। দিনের বেলা পাহাড়ের বিভিন্ন টিলায় ঘোরাঘুরি করে খাবার খুঁজলেও সন্ধ্যার দিকে তারা লোকালয়ে নেমে আসে।
গ্রামবাসী মশাল জ্বালিয়ে ও চিৎকার-হইহুল্লোড় করে হাতিকে জঙ্গলে ফেরাতে চেষ্টা করছেন। তবে এই ধরনের চেষ্টা সবসময় কার্যকর হচ্ছে না। আজ ২৮ আগস্ট বৃহস্পতিবার বিকেলে দেখা গেছে, সন্ধ্যাকুড়া এলাকায় হাতিরা গোলাপের বাগান, আকাশমনি কাঠের বাগান এবং বিভিন্ন সবজি খেতে অবস্থান করছে। এর ফলে ধান ও সবজির ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
সন্ধ্যাকুড়া গ্রামের কৃষক দেলোয়ার জানালেন, “গত রাতে বন্য হাতিরা আমার ধানের ২৫ শতাংশ ক্ষেত পিষ্ট করেছে। আমরা খুব কষ্টে জীবন যাপন করছি। হাতির অত্যাচারে সহ্য করা কঠিন।” অন্য গ্রামবাসী সাব্বিরও বলেন, “আমার বরবটি ও বেগুনের ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। হাতির দল প্রতিটি ঘরে ক্ষতি করছে। সরকারের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”
ময়মনসিংহ বন বিভাগের রাংটিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল করিম জানান, হাতির খাদ্যের জন্য পাহাড়ে সুফল বাগান তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া চলতি মাসে প্রতিটি বিটে দুই হাজার করে কলাগাছ রোপণের কর্মসূচি শুরু হয়েছে, যা বড় হলে হাতির খাবারের সংকট কমবে। বন বিভাগ ও ইআরটি সার্বক্ষণিকভাবে হাতিকে জঙ্গলে ফেরানোর চেষ্টা করছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, “মূলত খাদ্যের সন্ধানে হাতিরা লোকালয়ে এসেছে। সীমান্তে খাদ্যের ব্যবস্থা করলে হয়তো তারা লোকালয়ে আসত না। সাধারণ মানুষকে নিরাপদ দূরত্বে থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”
১০ ঘন্টা ৪৩ মিনিট আগে
১ দিন ২ ঘন্টা ০ মিনিট আগে
১ দিন ১৮ ঘন্টা ২৮ মিনিট আগে
১ দিন ১৮ ঘন্টা ২৯ মিনিট আগে
২ দিন ১৬ ঘন্টা ১৩ মিনিট আগে
২ দিন ১৬ ঘন্টা ২২ মিনিট আগে
২ দিন ১৬ ঘন্টা ২৫ মিনিট আগে
২ দিন ১৬ ঘন্টা ২৯ মিনিট আগে