গোয়ালন্দে সমালোচনার ঝড়: নুরাল পাগলা ইস্যুর তৃতীয় মামলা প্রত্যাহার
গোয়ালন্দে সমালোচনার ঝড়: নুরাল পাগলা ইস্যুর তৃতীয় মামলা প্রত্যাহার
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে বহুল আলোচিত নুরুল হক মোল্লা ওরফে নুরাল পাগলার দরবারে হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া তৃতীয় মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদন করা হয়েছে।
ব্যাপক সমালোচনা ও প্রতিবাদের মুখে মামলার বাদী ও নুরাল পাগলার শ্যালিকা শিরিন বেগম ২৪ নভেম্বর সোমবার রাজবাড়ীতে গোয়ালন্দের আমলী আদালতে এ আবেদন করেন।
মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবি অ্যাডভোকেট মোঃ শরিফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আসামীদের সাথে বাদীর আপস-মীমাংসা হয়ে গেছে বলে বাদী আজ মামলাটি প্রত্যাহারের জন্য বিজ্ঞ আদালতে আবেদন করেন।আদালত তার আবেদন মঞ্জুর করেছেন।
ঘটনার ৬৮দিন পর গত ১৩ নভেম্বর বৃহস্পতিবার তিনি এ মামলাটি দায়ের করেছিলেন।
মামলায় ৯৬ জনকে চিহিৃত ও আরো ৪০০ থেকে ৫০০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়।
বিজ্ঞ আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট তামজিদ হোসেন অভিযোগটি আমলে নিয়ে তদন্ত করে আগামী ২০ ডিসেম্বর তারিখের মধ্যে ফরিদপুর পিবিআইকে নির্দেশনা দিয়েছিলেন।
মামলার ১ নং আসামি সরকারি গোয়ালন্দ কামরুল ইসলাম কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ খন্দকার আব্দুল মুহিত হীরা তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, " আলহামদুলিল্লাহ, একটা মিথ্যা ও ষড়যন্ত্র হতে আমরা বহু নিরীহ মানুষ রেহাই পেলাম।সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি সহ যারা আমাদের পাশে থেকে সহযোগিতা করেছেন সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি "।
এছাড়া বিতর্কিত এ মামলায় শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, আইনজীবী, ব্যবসায়ী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মী, বিএনপি, জামায়াত, আওয়ামীলীগ, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ, এনসিপিসহ বিভিন্ন দলের নেতৃবৃন্দকে আসামি করা হয়। যাদের প্রায় সকলেই নুরাল পাগলের দরবারে হামলার ঘটনায় কোন সংশ্লিষ্টতা ছিল না। অনেকে হামলার দিন এলাকাতেও ছিলেন না।
এদিকে মামলার বিষয়টি জানাজানি হয়ে যাওয়ার পর স্হানীয়ভাবে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। অনেকে গ্রেফতার আতঙ্কে এলাকা ছাড়া হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে। বাদীরা এ মামলাটিকে উদ্দেশ্য প্রনোদিত ও অর্থ হাতানোর হাতিয়ার হিসেবে অভিহিত করেন।
মামলাটি প্রত্যাহার করে নেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা ইমান-আকিদা রক্ষা কমিটির আহবায়ক মাওলানা জালাল উদ্দীনের স্বাক্ষরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত দাবি জানানো হয়।
বিষয়টি নিয়ে গত ১৮ নভেম্বর মঙ্গলবার যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশিত হলে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
মামলার বিষয়ে ঢাকা জজ কোর্টের আইনজীবী মোঃ মকিম মন্ডল বলেন, নুরাল পাগলার দরবারে হামলার সাথে তিনি কোনভাবেই জড়িত নন।ওইদিন তিনি ঢাকাতে ছিলেন। অথচ তাকে এ মামলায় আসামি করা হয়েছিল। সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে হয়রানি ও মামলা বানিজ্য করার জন্য এ মামলাটি করা হয়েছিল। তাছাড়া আইনগত ভাবে একটা ঘটনায় একাধিক মামলা দায়েরের কোন সুযোগ নেই। দরবারের বিষয়ে ইতিমধ্যে দুইটি মামলা চলমান রয়েছে। যেখানে আসামি করা হয়ে ৭ থেকে ৮ হাজার জনকে। গ্রেফতার হয়ে বেশ কয়েকজন কারাগারে রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৫ সেপ্টেম্বর জুমার নামাজের পর গোয়ালন্দ বাজার শহীদ মহিউদ্দিন আনসার ক্লাবে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে উপজেলা ইমান আকিদা রক্ষা কমিটি ও তৌহিদী জনতা। বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে একদল উচ্ছৃঙ্খল মানুষ ওইদিন বেলা ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দফায় দফায় নুরাল পাগলার দরবারে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট অগ্নিসংযোগ চালায়। হামলাকারীরা শরিয়ত পরিপন্থীভাবে দাফনের অভিযোগ তুলে নুরাল পাগলের লাশ কাবা সাদৃশ্য কবর থেকে তুলে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোয়ালন্দের পদ্মার মোড় এলাকায় পুড়িয়ে দেন। হামলায় এক ভক্তের মৃত্যু হয়। আহত হন অনেকে।