প্রকাশের সময়: 26-11-2025 04:27:20 pm
সোহরাওয়ার্দী কলেজে সহিংসতার এক বছর ‘সুপার সানডে–মেগা মানডে’র নেপথ্যে উসকানি, প্রতিশোধ ও স্বার্থের সংঘাত"
দেশচিএ: হাদিসুর রহমান
ঢাকা, ২৪ নভেম্বর সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে সংঘটিত ভয়াবহ সহিংসতার এক বছর পূর্ণ হলো আজ। গত বছরের ২৪ নভেম্বর “সুপার সানডে” ব্যানারে রাজধানীর ড. মাহাবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের (ডিএমআরসি) নেতৃত্বে প্রায় ৩৫টি কলেজের শিক্ষার্থী সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও কবি নজরুল কলেজে একযোগে ভাঙচুর চালায়। এতে একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক কক্ষ, গাড়ি, নথি ও শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত সামগ্রীসহ বহু সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ঘটনার সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সাত কলেজের স্নাতক পরীক্ষা চলছিল। হঠাৎ হামলার কারণে অনেকে পরীক্ষা সম্পূর্ণ করতে পারেননি। এমনকি প্রশ্নপত্র, এডমিট কার্ড ও পরীক্ষার খাতা ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগও পাওয়া যায়।
"ডিএমআরসি শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সূচনা"
সুপার সানডের চার দিন আগে ডিএমআরসি’র ২৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী অভিজিৎ-এর ডেঙ্গুজনিত মৃত্যু নিয়ে ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ডিএমআরসি শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ শুরু করেন এবং আশপাশের বিভিন্ন কলেজের সহযোগিতা কামনা করেন।
অভিযোগ রয়েছে—বিক্ষোভ চলাকালে প্রথম আঘাত আসে সোহরাওয়ার্দী কলেজের একটি ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে গোপন সমঝোতা ও আন্দোলন নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে ওই সংগঠনের নেতারা পুলিশসহ তাদের কর্মীদের দিয়ে ডিএমআরসি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান। এতে আহত হন বেশ কয়েকজন, এবং পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
"সামান্য উত্তেজনা থেকে পরিকল্পিত সংঘর্ষ"
পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় দুই কলেজের শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রাথমিক ধাক্কাধাক্কি হলেও তা পরবর্তীতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বড় সহিংসতায় রূপ দেওয়া হয়। আগের বৃহস্পতিবার সোহরাওয়ার্দীর ওই ছাত্রনেতারা আবারও ডিএমআরসি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভুল তথ্য দিয়ে উসকে দেওয়া হয় এমন অভিযোগও রয়েছে।
উত্তেজনা, ক্ষোভ ও বিচ্ছিন্ন উসকানির মধ্যেই ২৪ নভেম্বর ডিএমআরসি-নেতৃত্বাধীন শিক্ষার্থীরা সোহরাওয়ার্দী ও কবি নজরুল কলেজে ব্যাপক ভাঙচুর চালান। পরদিন ২৫ নভেম্বর প্রতিশোধ হিসেবে সোহরাওয়ার্দী ও কবি নজরুল কলেজের শিক্ষার্থীরা আক্রমণ করেন ডিএমআরসি ক্যাম্পাসে।
“সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করা হয়েছে”—এমন অভিযোগ দুই পক্ষেই
ঘটনার এক বছর পরও সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি—এই সহিংসতা মূলত ছিল একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষার ফল। দুই কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা নিজেরা সংঘর্ষের পক্ষপাতী ছিলেন না; বরং উসকানি ও বিভ্রান্তির শিকার হয়েই তারা সহিংস পরিস্থিতিতে জড়িয়ে পড়েন।
তাদের অভিযোগ, ন্যাশনাল মেডিকেলের পক্ষে অবস্থান নিয়ে সোহরাওয়ার্দীর একটি গোষ্ঠী পরিস্থিতিকে ইচ্ছাকৃতভাবে সহিংসতার দিকে ঠেলে দেয়। অথচ কলেজ প্রশাসন ঘটনার আগাম সংকেত পেয়ে থাকলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।
"উসকানিমূলক পোস্ট না করার আহ্বান"
সহিংসতার স্মৃতি এখনো তাজা। ঘটনাটির বর্ষপূর্তি সামনে রেখে সোহরাওয়ার্দী ও কবি নজরুল কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “মেগা মানডে” সম্পর্কিত ভিডিও বা উসকানিমূলক পোস্ট না করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তাদের ভাষ্য
“আমরা ছিলাম ষড়যন্ত্রের শিকার। এখন থেকে কোনো দল বা গোষ্ঠীর স্বার্থে সাধারণ শিক্ষার্থী
দের আর ব্যবহার করা যাবে না।”
১ ঘন্টা ৩১ মিনিট আগে
১ ঘন্টা ৪১ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ৪ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ৩৫ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ৪১ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ৫১ মিনিট আগে