সংসার ভাঙলেও পিছু ছাড়ছে না হয়রানি। এবার নিজের ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে প্রাক্তন স্ত্রীর ব্যক্তিগত ও অন্তরঙ্গ ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সিলেটের এক যুবকের বিরুদ্ধে। শুধু ছবি ছড়ানোই নয়, সেই ছবি মুছে দেওয়ার বিনিময়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগও পাওয়া গেছে।এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে যশোর কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্তরা হলেন—সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের ইধন মিয়ার ছেলে এবং ভুক্তভোগীর প্রাক্তন স্বামী সুমন মিয়া (২৯) ও তার ছোট ভাই সাইফুল ইসলাম (২৫)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালে মথুরাপুর গ্রামের ওই নারীর সাথে সুমন মিয়ার বিয়ে হয়। তাদের একটি কন্যাসন্তানও রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কলহ লেগেই থাকত। একপর্যায়ে সুমন মিয়া বাদীর অনুমতি ছাড়াই দ্বিতীয় বিয়ে করলে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। গত ২০২৫ সালের ১৯ মার্চ তাদের বিবাহবিচ্ছেদ (তালাক) সম্পন্ন হয়।ভুক্তভোগী নারী জানান, বৈবাহিক জীবনে থাকাকালীন তিনি তার মায়ের নামে একটি ফেসবুক আইডি খুলেছিলেন। সেই আইডির পাসওয়ার্ড সুমন মিয়া জানতেন। তালাকের পর সেই আইডি ব্যবহার করে বাদীর একান্ত ব্যক্তিগত কিছু ছবি প্রোফাইল পিকচার হিসেবে আপলোড করে দেওয়া হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে ভুক্তভোগী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।
পরবর্তীতে ছবিগুলো সরিয়ে ফেলার অনুরোধ করলে সুমন মিয়া দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। অন্যথায় আরও আপত্তিকর ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। উপায়ান্তর না দেখে গত ১০ জানুয়ারি ভুক্তভোগী বিকাশ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সুমনকে পাঁচ হাজার টাকা পাঠান। তবে টাকা পাওয়ার পর সুমন ছবি না সরিয়ে আরও এক লাখ টাকা দাবি করেন।কোনো সমাধান না পেয়ে ভুক্তভোগী নারী যশোর আদালতের শরণাপন্ন হন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে নিয়মিত মামলা হিসেবে গ্রহণ করার জন্য কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশনার পর গত বৃহস্পতিবার রাতে থানায় মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত করা হয়।যশোর কোতোয়ালি থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মামলার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেফতারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
১২ ঘন্টা ২৩ মিনিট আগে
১২ ঘন্টা ৫০ মিনিট আগে
১২ ঘন্টা ৫৪ মিনিট আগে
১৩ ঘন্টা ৫৪ মিনিট আগে
১৩ ঘন্টা ৫৫ মিনিট আগে
১৪ ঘন্টা ৪০ মিনিট আগে
১৪ ঘন্টা ৫১ মিনিট আগে