জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা ডাকার বিষয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের তোলা মুলতবি প্রস্তাবের ওপর মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে জাতীয় সংসদে। আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ‘সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫’ সম্পূর্ণ অবৈধ এবং এটি একটি ‘জাতীয় প্রতারণার দলিল’। তিনি দাবি করেন, এই আদেশ শুরু থেকেই বাতিল বা ‘ভয়েড অ্যাব ইনিশিও’।
একই আলোচনায় আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, তথাকথিত ‘জুলাই আদেশ’ কোনো আইন নয়; এটি সংবিধানের সঙ্গে প্রতারণা এবং একটি ‘কালারেবল লেজিসলেশন’।
আজ সন্ধ্যার পর কার্যপ্রণালি বিধির ৬২ বিধিতে এই আলোচনা শুরু হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
এর আগে প্রস্তাবটি উত্থাপন করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘১৫ মার্চ পয়েন্ট অব অর্ডারে বিষয়টি তোলার পর স্পিকারের পরামর্শে তিনি যথাযথ নোটিশ দেন, পরে তা আলোচ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।’
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও দেশের মানুষের পূর্ণ আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়িত হয়নি; অতীতে ভোটে নির্বাচিত সরকার এলেও ভোটাধিকার বারবার খর্ব করা হয়েছে।’
জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে শফিকুর রহমান বলেন, ‘এটি শুধু তরুণদের আন্দোলন ছিল না; কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষ, ছাত্র-জনতা, এমনকি শিশুসন্তানকে নিয়েও মায়েরা রাস্তায় নেমেছিলেন। জুলাইতে আন্দোলন হয়েছিল যে ন্যায্যতার ভিত্তিতে, ন্যায়বিচারের ওপরে একটা দেশ কায়েম হবে, যেখানে সবাই সমান অধিকার পাবে নাগরিক হিসেবে।’
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘দীর্ঘ আলোচনা শেষে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে সংস্কারের প্রস্তাব চূড়ান্ত হয় এবং সেই আলোকে রাষ্ট্রপতি একটি আদেশ জারি করেন।’
আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭১ সালের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র এবং ১৯৭২ সালের প্রভিশনাল কনস্টিটিউশন অর্ডারের আওতায় রাষ্ট্রপতি আদেশ জারি করতে পারতেন। কিন্তু ১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় সংসদের অধিবেশনের পর সংবিধানের চতুর্থ তফসিলের ১৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সেই ক্ষমতা রহিত হয়ে যায়। ফলে ২০২৫ সালে জারি করা সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশের কোনো সাংবিধানিক ভিত্তি নেই।’
তিনি বলেন, ‘যে আদেশের কোনো আইনি ভিত্তি নেই, তা কোনো আইন বা অধ্যাদেশ নয়; এটি একটি প্রতারণামূলক দলিল মাত্র।’
গণভোট প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, জনগণের মতামত জানার নামে বিভ্রান্তিকর পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। ব্যালটে একাধিক গ্রহণযোগ্য প্রশ্নের সঙ্গে বিতর্কিত আদেশ যুক্ত করে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে, যা জনগণের সার্বভৌমত্বের পরিপন্থি।
শপথ গ্রহণের বিষয়েও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার সমালোচনা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সংসদ সদস্যরা সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ ও তৃতীয় তফসিল অনুযায়ী শপথ নিয়েছেন। কিন্তু প্রধান নির্বাচন কমিশনার ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার ফরম বিতরণ করেছেন, যার কোনো আইনি ভিত্তি নেই। এতে সিইসি সংবিধান লঙ্ঘন ও শপথ ভঙ্গ করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, তথাকথিত ‘জুলাই আদেশ’ আসলে আইনি ভিত্তিহীন একটি উদ্যোগ। জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট অনুযায়ী কোনো অর্ডারের আইনি ব্যাকিং থাকতে হয়। এই আদেশের কোনো আইনি ভিত্তি নেই। এটি সংবিধানের ওপর একটি প্রতারণা বলেন তিনি।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ১৯৭২ সালের সংবিধানই দেশের সাংবিধানিক ভিত্তি এবং সেই সংবিধানের আলোকে সংসদ সদস্যরা শপথ নিয়েছেন। তাই অবৈধ কোনো আদেশ দিয়ে সংসদের সার্বভৌম ক্ষমতাকে বাধ্য করা যাবে না। তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই সনদের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা সংসদের মাধ্যমেই হতে পারে এবং প্রয়োজনে সংবিধান সংশোধনের সাংবিধানিক পথ অনুসরণ করা হবে।
বিএনপির বিরুদ্ধে সংস্কারবিরোধী–এমন অভিযোগও খণ্ডন করেন দুই মন্ত্রী। তারা বলেন, দলটি সংবিধানসম্মত সংস্কারের পক্ষে এবং জুলাই জাতীয় সনদের যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলো সংসদে আলোচনা করে জনগণের ম্যান্ডেট অনুযায়ী বাস্তবায়ন করা হবে।
২৩ ঘন্টা ৪০ মিনিট আগে
১ দিন ২১ ঘন্টা ২৮ মিনিট আগে
২ দিন ১৯ ঘন্টা ১৩ মিনিট আগে
৩ দিন ৪৭ মিনিট আগে
৪ দিন ১৮ ঘন্টা ৯ মিনিট আগে
৫ দিন ৩ ঘন্টা ৫ মিনিট আগে
৫ দিন ২৩ ঘন্টা ১৪ মিনিট আগে
৭ দিন ১৭ ঘন্টা ৩৩ মিনিট আগে