ঝিনাইগাতীতে কারিতাস সীডস প্রকল্পের আয়োজনে দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত শার্শায় ৪ টি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা দেশব্যাপী হাম-রুবেলার টিকাদান শুরু : লক্ষ্যমাত্রা ১ কোটি ৮০ লাখ শিশু সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ নিয়ে প্রশ্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও চলবে টিকাদান লালপুরে অবৈধ মাটি খননের অপরাধে দুই লক্ষ টাকা জরিমানা কচুয়ায় রাগদৈল ইমাম মেমোরিয়াল দ্বিমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ে এস এস সি পরীক্ষার্থীদের বিদায় উপলক্ষে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা প্রবাসীর ২০ লাখ টাকা নিয়ে পরকীয়া প্রেমিকের হাত ধরে স্ত্রী উধাও: নিখোঁজ ৮ বছরের শিশু সকাল ৯টার মধ্যে ৩ অঞ্চলে বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরেই মোহাম্মদ হোসাইন ও মঈনুদ্দীন আইনজীবী তেতৈয়া দাওয়াতুল ইসলাম দাখিল মাদরাসায় বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও নুরুল আমিন এমপিকে সংবর্ধনা লাখাইয়ে চোরাই মোটরসাইকেল সহ আটক -১। শ্যামনগরে চিংড়ীতে জেলি পুশ, ব্যবসায়ীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা শ্যামনগরে এবার এসএসসি,দাখিল ও সমমান পরীক্ষার্থী ২৯৭৮ জন কোম্পানীগঞ্জে নাছের ও মুছাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা মাদ্রাসার পুকুরে ডুবে তা'মীরুল মিল্লাত টঙ্গী'র সপ্তম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু মাদ্রাসার পুকুরে ডুবে তা'মীরুল মিল্লাত টঙ্গী'র সপ্তম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু নওগাঁয় বিপুল দেশীয় অস্ত্রসহ ৩ সন্ত্রাসী গ্রেফতার চৌদ্দগ্রাম দারুচ্ছুন্নাৎ দাখিল মাদরাসায় পরীক্ষার্থীদের বিদায় ও দোয়া অনুষ্ঠান জয়পুরহাট হার্ট ফাউন্ডেশনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ নিয়ে প্রশ্ন




সাম্প্রতিক সময়ে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু গণমাধ্যমে নানা ধরনের আলোচনা ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। কলেজের প্রায় ৯০ বিঘা জমির মধ্যে ১০ বিঘা জমি ধান ও সরিষা চাষের জন্য লীজ দেওয়ার বিষয়টি কেন্দ্র করে এই বিতর্কের সূত্রপাত।

তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র ও সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, আলোচিত বিষয়টি যেভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, বাস্তব চিত্র তার থেকে অনেকটাই ভিন্ন। কলেজ কর্তৃপক্ষ বলছে, যে ১০ বিঘা জমি লীজ দেওয়া হয়েছে তা কোনো একাডেমিক কার্যক্রম, খেলার মাঠ বা শিক্ষার্থীদের ব্যবহারযোগ্য উন্মুক্ত প্রাঙ্গণের অংশ নয়। এটি একটি নিচু জমি, যেখানে বর্ষা মৌসুমে পানি জমে থাকে এবং বছরের অধিকাংশ সময় ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

এই অনাবাদী জমিকে উৎপাদনশীল করতে ধান ও সরিষা চাষের জন্য লীজ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রতি বছর প্রায় ৭০ হাজার টাকা কলেজের তহবিলে যুক্ত হচ্ছে, যা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।

জমিটি কলেজের একটি সংরক্ষিত এলাকায় অবস্থিত, যেখানে তারকাঁটা দিয়ে বাউন্ডারি দেওয়া আছে। এই এলাকার ভেতরে একটি ছাত্রী হোস্টেল রয়েছে, যেখানে প্রায় ১৪৩ জন শিক্ষার্থী বসবাস করে। ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে এলাকাটি সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এছাড়াও সংরক্ষিত এলাকার শুরুতেই একটি বোটানিক্যাল গার্ডেন গড়ে তোলা হয়েছে এবং বর্ষা মৌসুমে সেখানে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ফলে পুরো এলাকাটি একটি পরিকল্পিত, পরিবেশবান্ধব ও সুরক্ষিত জোন হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে।

অন্যদিকে কলেজের বাকি বিশাল এলাকায় রয়েছে একাধিক খেলার মাঠ, উন্মুক্ত প্রাঙ্গণ, গাছপালা, একটি বড় পুকুর এবং শিক্ষার্থীদের বসার জন্য পাকা ব্যবস্থা। পুকুরের দুই পাশে মজবুত ঘাট নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া একটি প্রশস্ত কমনরুমও রয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের অবসর কাটানোর জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রায় ১৮ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য পর্যাপ্ত খোলা জায়গা কলেজে বিদ্যমান রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এদিকে কিছু শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে, লীজ দেওয়া জমির কারণে তারা ক্যাম্পাসে অবাধে চলাচল করতে পারছে না। তবে কলেজ প্রশাসনের দাবি, এই অভিযোগের পেছনে একটি ভিন্ন উদ্দেশ্য রয়েছে।

অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষের সাথে আলোচনায় উঠে এসেছে, একটি ক্ষুদ্র শিক্ষার্থী গোষ্ঠী মূলত সংরক্ষিত ছাত্রী হোস্টেল এলাকায় প্রবেশের সুযোগ চায়। কিন্তু নিরাপত্তাজনিত কারণে এমন দাবি গ্রহণযোগ্য নয় বলে স্পষ্ট জানানো হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের মতে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো অভিযোগ নেই। বরং একটি ছোট গোষ্ঠী বিষয়টিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে অযথা বিতর্ক সৃষ্টি করছে, যা শিক্ষাঙ্গনের স্বাভাবিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ছাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাওয়া উচিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সবশেষে বলা যায়, অনাবাদী জমিকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক সুবিধা অর্জন এবং একই সঙ্গে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এই উদ্যোগকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা দুঃখজনক। সচেতন মহলের উচিত তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিষয়টি মূল্যায়ন করা এবং একটি সুন্দর শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা।

Tag
আরও খবর