◼️ মনির হোসেন : একটি রাষ্ট্র কেবল সংবিধান বা প্রশাসনিক কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে টিকে থাকে না; তার কার্যকারিতা নির্ভর করে রাজনৈতিক সংস্কৃতি, জবাবদিহিতা এবং পারস্পরিক ভারসাম্যের ওপর। এই প্রেক্ষাপটে ক্ষমতাসীন সরকার, গণমাধ্যম এবং গণতান্ত্রিক বিরোধী দল—এই তিনটি শক্তি একটি রাষ্ট্রের গতিপথ নির্ধারণে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। এদের মধ্যে কোনো একটির ব্যত্যয় গোটা ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিতে পারে, আর সমন্বিত দায়িত্বশীলতা রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের পথে।
প্রথমত, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক সরকারের দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে তারা রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষমতা লাভ করে—এটি কোনো বিশেষ সুবিধা নয়, বরং একটি গুরুদায়িত্ব। সরকারের প্রধান কর্তব্য হলো সুশাসন নিশ্চিত করা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা এবং নাগরিকের মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত রাখা। নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা—এসবই একটি কার্যকর সরকারের মৌলিক বৈশিষ্ট্য। একটি পরিণত সরকার সমালোচনাকে ভয় পায় না; বরং তা গ্রহণ করে নিজেদের সীমাবদ্ধতা সংশোধনের সুযোগ হিসেবে।
দ্বিতীয়ত, গণমাধ্যম রাষ্ট্রের “চতুর্থ স্তম্ভ” হিসেবে পরিচিত। এটি শুধু তথ্য পরিবেশনের মাধ্যম নয়; বরং সত্য অনুসন্ধান, জনমত গঠন এবং ক্ষমতার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যমই পারে সমাজের অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচন করতে এবং জনগণকে সচেতন করতে। তবে এই স্বাধীনতার সঙ্গে রয়েছে নৈতিক দায়বদ্ধতা—অপপ্রচার, গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য পরিবেশন গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই সত্যনিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বই হওয়া উচিত গণমাধ্যমের মূল ভিত্তি।
তৃতীয়ত, গণতান্ত্রিক বিরোধী দল একটি সুস্থ রাজনৈতিক ব্যবস্থার অপরিহার্য অংশ। বিরোধিতা মানেই বাধা সৃষ্টি নয়; বরং তা হলো বিকল্প চিন্তা ও নীতির উপস্থাপন। একটি দায়িত্বশীল বিরোধী দল সরকারের ভুলত্রুটি গঠনমূলকভাবে তুলে ধরে, সংসদে সক্রিয় ভূমিকা রাখে এবং জনগণের সমস্যাগুলো সামনে আনে। অগণতান্ত্রিক বা সহিংস পন্থা পরিহার করে শান্তিপূর্ণ ও সাংবিধানিক উপায়ে আন্দোলন পরিচালনা করাই তাদের মূল দায়িত্ব। শক্তিশালী বিরোধী দল থাকলে সরকারও স্বাভাবিকভাবে আরও সতর্ক ও জবাবদিহিমূলক হয়ে ওঠে।
বাস্তবতা হলো, এই তিনটি শক্তি যদি পারস্পরিক অবিশ্বাস ও সংঘাতের পথে এগোয়, তবে রাষ্ট্রীয় কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে। পক্ষান্তরে, যদি তারা নিজেদের সীমারেখা মেনে দায়িত্বশীল আচরণ করে এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে আস্থাশীল থাকে, তবে একটি সুসংহত ও কার্যকর রাষ্ট্র গড়ে ওঠা সম্ভব।
অতএব, একটি রাষ্ট্রের সাফল্য নির্ভর করে ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণে নয়, বরং ক্ষমতার সুষম বণ্টন ও জবাবদিহিতায়। সরকার সেবা দেবে, গণমাধ্যম সত্য তুলে ধরবে এবং বিরোধী দল গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে ভারসাম্য রক্ষা করবে—এই ত্রিমুখী দায়িত্ববোধই পারে একটি রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিতে টেকসই উন্নয়ন ও সুদৃঢ় গণতন্ত্রের পথে।
২ ঘন্টা ১২ মিনিট আগে
১৯ ঘন্টা ২১ মিনিট আগে
৫ দিন ১৯ ঘন্টা ৫৩ মিনিট আগে
৭ দিন ১৪ ঘন্টা ১৪ মিনিট আগে
১০ দিন ৯ ঘন্টা ৩৩ মিনিট আগে
২০ দিন ১৫ ঘন্টা ৬ মিনিট আগে
৩০ দিন ১৫ ঘন্টা ৫৩ মিনিট আগে
৩৪ দিন ১ ঘন্টা ৯ মিনিট আগে