দুই বছর শারীরিক সম্পর্কের পর প্রতারণার অভিযোগ রেলপথে অসতর্কতার মাশুল, প্রাণ হারালেন এক তরুণ রংপুর বিভাগে লোকসংগীতে প্রথম স্থান অর্জন করল উলিপুরের নিজশ্রী সরকার পৃথিরাই বজ্রপাতের শিকার জেলের মরদেহ উদ্ধার ঝিনাইগাতীতে গ্রাম আদালতের সেবা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বার্ষিক ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত পাটকেলঘাটা থানাকে উপজেলায় উন্নীতকরণের লক্ষ্যে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত অনার্স কোর্স থেকে বাংলা ও ইতিহাস বাদ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই: শিক্ষামন্ত্রী চিলমারীতে "ব্রহ্মপুত্র নদে নিখোঁজ শিশু রাইশা মনির" ৪৪ ঘণ্টা পর মরদেহ উদ্ধার বরিশালে বিপুল পরিমাণে গাজা উদ্ধার, পলাতক ২ ঈশ্বরগঞ্জে একরাতে সাতটি গরু চুরি সানন্দবাড়ী বাজারে ডাচ্-বাংলা এজেন্ট ব্যাংকিং এর গ্রাহক সমাবেশ অনুষ্ঠিত ক্ষেতলালে পৃথক অভিযানে গ্রেফতার - ২ দেবহাটায় র‌্যাবের অভিযানে ২৫৪ বোতল ফেনসিডিল জব্দ, আটক ১ বিজিবির অভিযানে ফেনসিডিল-কোডিনসহ মালামাল আটক আক্কেলপুরে একই দিনে পৃথক স্থান থেকে দুই নারীসহ ৩ জনের লাশ উদ্ধার. আশাশুনিতে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে ব্র্যাকের র‌্যালি আলোচনা সভা ও বৃক্ষ রোপন ভূমির সেবা ক্ষেত্রে কোন অনিয়ম বরদাশত করা হবে না -ডিসি ড. জি. এম সরফরাজ বানিয়াচংয়ে গ্রাম আদালতের সচেতনতা বৃদ্ধিতে কর্মশালা ক্ষেতলালে গ্রাম আদালত সমন্বয় কর্মশালা অনুষ্ঠিত সৈয়দ হারুন এমজেএফ বাতাকান্দি আদর্শ স্কুল এন্ড কলেজের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন

দুই বছর শারীরিক সম্পর্কের পর প্রতারণার অভিযোগ



সাতক্ষীরা শহরের কামাননগর মধ্যপাড়া এলাকায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘ দুই বছর ধরে এক অনার্স পড়ুয়া শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণী সদর থানায় ধর্ষণের অভিযোগে এজাহার দাখিল করেছেন। অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও তার পরিবার।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে ওই শিক্ষার্থী তার এক বান্ধবীর বাড়িতে প্রাইভেট পড়তে যেতেন। সে সময় বান্ধবীর ভাই আরাফাতের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ভুক্তভোগীর দাবি, আরাফাত প্রথমে তাকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। তবে তিনি জানতে পারেন আরাফাত বিবাহিত, তাই প্রথমে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। পরে নানা কৌশলে তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন আরাফাত।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আরাফাত দীর্ঘ সময় ধরে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। এক পর্যায়ে আরাফাতের কথামতো তিনি তার পূর্বের স্বামী মেহেদী হাসানকে তালাক দেন। এরপরও বিয়ের আশ্বাস দিয়ে সম্পর্ক চালিয়ে যেতে থাকেন অভিযুক্ত।

তরুণীর ভাষ্যমতে, প্রায় ২০ থেকে ২২ দিন আগে আরাফাতের পরিবার তাদের সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পারে। এরপর আরাফাত তাকে জানিয়ে দেন যে তিনি আর বিয়ে করবেন না এবং তার পরিবারও তাকে মেনে নেবে না। এতে তিনি চরম মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েন।

ভুক্তভোগীর মা শাহানারা বেগম জানান, মেয়ের ভবিষ্যৎ রক্ষার জন্য তিনি একাধিকবার অভিযুক্তের বাড়িতে গিয়ে মেয়েকে পুত্রবধূ হিসেবে গ্রহণ করার অনুরোধ করেন। কিন্তু অভিযুক্তের পরিবার তা প্রত্যাখ্যান করে এবং তাদের বাড়ি থেকে বের করে দেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, বিচার না পেয়ে তার মেয়ে কয়েকদিন আগে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। পরে তাকে নিবৃত্ত করা সম্ভব হয়। বর্তমানে মেয়ের মানসিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক বলে তিনি দাবি করেন।

শাহানারা বেগম জানান, তিনি অন্যের বাড়িতে কাজ করে কষ্ট করে মেয়েকে পড়ালেখা করিয়েছেন। বর্তমানে তার মেয়ে সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজে অনার্সে অধ্যয়নরত।

পরিবারের দাবি, গত ১ জুন সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তদন্তও করে। পরে উভয় পক্ষকে থানায় বসে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার আহ্বান জানানো হলেও অভিযুক্ত পক্ষ কোনো সমঝোতা বৈঠকে অংশ নেয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরবর্তীতে ৯ জুন রাতে ভুক্তভোগী তরুণী বাদী হয়ে অভিযুক্ত আরাফাতের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা সদর থানায় ধর্ষণের অভিযোগে এজাহার দাখিল করেন। এজাহারের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ ও নথিপত্রও জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহা. মাসুদুর রহমান বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অন্যদিকে অভিযুক্তের পিতা আব্দুল আজিজ দাবি করেন, বিষয়টি নিয়ে তারা ক্ষতিপূরণের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে ভুক্তভোগী পরিবার অর্থ নয়, বিয়ের মাধ্যমে সামাজিক স্বীকৃতি চাইছে। তিনি বলেন, বিয়ের বিষয়টি সম্ভব নয়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণী ও তার পরিবার সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা আশা করছেন, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে এবং আইনের আওতায় দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag
আরও খবর