সাতক্ষীরার তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা ভূমি অফিসের নায়েব তারক চন্দ্র মন্ডলের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি, অনিয়ম ও অসদাচরণের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ভুক্তভোগীদের দাবি, সরকারি সেবা নিতে গিয়ে তারা নানা ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে গত ৮ জুন সরেজমিনে অনুসন্ধান চালিয়ে কয়েকজন ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে এসব অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়।
জগনন্দকাটি গ্রামের বাসিন্দা তরুণ কুমার সাধু অভিযোগ করে বলেন, তিনি ও তার স্ত্রী পূর্ণিমা সাধুর নামে নিবন্ধিত দুটি কবলা দলিলের জমি নামজারি (মিউটেশন) করার জন্য ভূমি অফিসে যান। এ সময় নায়েব তারক চন্দ্র মন্ডল তার জমিকে খাস জমি হিসেবে উল্লেখ করেন। পরে জমিটি নিজের নামে বন্দোবস্ত নেওয়ার বিষয়ে কথা বললে নায়েব তাকে নানা অজুহাত দেখিয়ে প্রক্রিয়া বিলম্বিত করেন এবং অর্থ দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তরুণ কুমার সাধুর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ০.৯০০ একর জমির বিষয়ে সর্বশেষ তার কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার আবেদন খারিজ করার হুমকি দেওয়া হয়। তিনি দাবি করেন, জমির মালিকানার পক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আদালতের নথি তার কাছে রয়েছে।
অপরদিকে কুমিরা ইউনিয়নের রাড়ীপাড়া গ্রামের একরামুল সরদার অভিযোগ করেন, তিনি ৪ শতক জমির খাজনা দাখিলা কাটতে গেলে তার কাছে ১৩ হাজার ৭০০ টাকা দাবি করা হয়। তিনি এত টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে পরে ২ হাজার টাকা দাবি করা হয়। শেষ পর্যন্ত ১ হাজার ৫০০ টাকা দেওয়ার পর তার দাখিলা সম্পন্ন হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। অথচ সরকারি হিসাব অনুযায়ী দাখিলায় উল্লেখিত টাকার পরিমাণ ছিল অনেক কম।
আরেক ভুক্তভোগী মুকুল হোসেন জানান, খাজনা পরিশোধের জন্য গেলে নায়েব তার কাছে প্রায় ১৩ হাজার টাকার হিসাব দেন। তিনি বিষয়টি নিয়ে আপত্তি করলে অসৌজন্যমূলক আচরণের শিকার হন বলে অভিযোগ করেন। পরে একই অফিসের অন্য এক কর্মকর্তার কাছে গেলে তিনি ৩ হাজার ১০৪ টাকার সরকারি হিসাব দেখিয়ে খাজনা পরিশোধের ব্যবস্থা করে দেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি অভিযোগ করেন, নামজারি (মিউটেশন) সংক্রান্ত ফাইল গ্রহণের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়। সামান্য ভুলত্রুটি থাকলেও ফাইল গ্রহণে নানা জটিলতা সৃষ্টি করা হয় বলে তাদের অভিযোগ।
স্থানীয় বাসিন্দা মিলন ঘোষ বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে অফিসে শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার দায়িত্ব থাকলেও নায়েবের আচরণ অনেক সময় সেবাগ্রহীতাদের জন্য বিব্রতকর হয়ে ওঠে। তার বিরুদ্ধে অসৌজন্যমূলক ভাষা ব্যবহার ও সেবাপ্রার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নায়েব তারক চন্দ্র মন্ডল বলেন, বিভিন্ন সময়ে অফিসে অডিট ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে কিছু খরচ থাকে। এসব কারণে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেননি বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে তালা-পাটকেলঘাটা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাহাত খান বলেন, এ ধরনের অভিযোগ আগে একবার শুনেছি। তবে কেউ যদি সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণসহ লিখিত অভিযোগ করেন, তাহলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, ভূমি অফিসে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
২ ঘন্টা ২৫ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ৪৪ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ৫১ মিনিট আগে
৩ ঘন্টা ২০ মিনিট আগে
৪ ঘন্টা ১১ মিনিট আগে