মুন্সি শাহাব উদ্দীন, চট্টগ্রাম
গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহে যখন চারপাশের পরিবেশ অস্থির হয়ে ওঠে, তখন মানুষের জীবন হয়ে পড়ে অস্বস্তিকর ও ক্লান্তিকর। সূর্যের প্রচণ্ড তাপে রাস্তা-ঘাট উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, বাতাস ভারী হয়ে যায় এবং ঘরের ভেতরেও গরমে বসে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। এমন সময় আকাশে হঠাৎ কালো মেঘ জমে উঠলে মানুষের মনে এক ধরনের আশার আলো দেখা দেয়। আর যখন সেই মেঘ ভেঙে বৃষ্টি নামে, তখন যেন পুরো প্রকৃতি ও মানুষের জীবনে এক অনন্য স্বস্তি নেমে আসে। তাই বলা হয়—বৃষ্টি নামলেই স্বস্তি।
বৃষ্টির প্রথম ফোঁটা মাটিতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই চারপাশের পরিবেশ বদলে যেতে শুরু করে। ধুলোমাখা রাস্তাঘাট ধুয়ে পরিষ্কার হয়ে যায় এবং বাতাসে শীতলতার ছোঁয়া লাগে। দীর্ঘদিনের গরমে অতিষ্ঠ মানুষ তখন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। জানালা দিয়ে আসা ঠান্ডা বাতাস শরীর ও মনকে শান্ত করে তোলে। অনেকেই বৃষ্টির শব্দ শুনে থমকে দাঁড়িয়ে যায়, যেন প্রকৃতির এই সুর তাদের ভেতরে এক ধরনের প্রশান্তি জাগিয়ে তোলে।
বৃষ্টির পর ভেজা মাটির সোঁদা গন্ধ মানুষের অনুভূতিকে আরও গভীর করে তোলে। এই গন্ধ অনেকের কাছে খুবই প্রিয় এবং স্মৃতিময়। গাছপালা যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়। পাতার উপর জমে থাকা ধুলো ধুয়ে গিয়ে সেগুলো আরও সবুজ ও সতেজ হয়ে ওঠে। ফুল ও লতাপাতাও যেন নতুন রূপে সেজে ওঠে। আকাশ তখন মেঘলা হলেও প্রকৃতির সৌন্দর্য আরও বেড়ে যায়।
শহরের জীবনে বৃষ্টির প্রভাব কিছুটা ভিন্ন হলেও তা কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। ব্যস্ত শহরের রাস্তায় বৃষ্টি পড়লে মানুষের চলাচল কিছুটা ধীর হয়ে যায়। যানবাহনের শব্দ কমে গিয়ে এক ধরনের শান্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়। অনেকেই ছাতা হাতে দাঁড়িয়ে বৃষ্টি উপভোগ করে, কেউ আবার দোকানের ছাউনির নিচে দাঁড়িয়ে প্রকৃতির এই দৃশ্য দেখে। বাসার জানালার পাশে বসে চা খেতে খেতে বৃষ্টি দেখা অনেকের জন্য এক বিশেষ আনন্দের মুহূর্ত হয়ে ওঠে।
গ্রামের জীবনে বৃষ্টির স্বস্তি আরও গভীরভাবে অনুভূত হয়। কৃষকের জন্য বৃষ্টি হলো আশীর্বাদস্বরূপ। ধানক্ষেত, পাটক্ষেত ও অন্যান্য ফসল বৃষ্টির পানিতে সজীব হয়ে ওঠে। অনেক কৃষক আকাশের দিকে তাকিয়ে বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করে, কারণ বৃষ্টি মানেই ফসলের সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ জীবনের নিশ্চয়তা। শিশুদের কাছে বৃষ্টি মানে আনন্দ, কাগজের নৌকা ভাসানো, পানিতে ভিজে খেলা করা এবং নির্ভেজাল শৈশবের সুখ।
তবে বৃষ্টি সবসময় শুধু আনন্দ ও স্বস্তি নিয়ে আসে না। কখনো কখনো অতিবৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, রাস্তা-ঘাট ডুবে যায় এবং মানুষের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয়। শহরে যানজট বেড়ে যায় এবং গ্রামে কাঁচা রাস্তা কাদায় পরিণত হয়। কিছু এলাকায় বন্যার মতো দুর্যোগও দেখা দেয়, যা মানুষের জন্য কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবুও এসব কষ্টের মাঝেও বৃষ্টির প্রতি মানুষের ভালোবাসা কমে না।
সব মিলিয়ে বলা যায়, বৃষ্টি প্রকৃতির এক অনন্য দান। এটি একদিকে যেমন গরমের কষ্ট দূর করে স্বস্তি আনে, তেমনি প্রকৃতিকে করে তোলে সতেজ ও প্রাণবন্ত। মানুষের মনেও এটি এক ধরনের শান্তি ও আনন্দের অনুভূতি জাগায়। তাই সত্যিই, বৃষ্টি নামলেই আমাদের জীবনে নেমে আসে এক গভীর স্বস্তি।
১ ঘন্টা ৫১ মিনিট আগে
১ ঘন্টা ৫৮ মিনিট আগে
১১ ঘন্টা ৪৫ মিনিট আগে
১৪ ঘন্টা ৩০ মিনিট আগে
১৪ ঘন্টা ৫০ মিনিট আগে
১৪ ঘন্টা ৫৬ মিনিট আগে