অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নে কোনো ধরনের দলীয় সম্পৃক্ততা থাকবে না। এ কর্মসূচির কার্যক্রম তদারকিতে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) সক্রিয় ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে গঠিত মন্ত্রিপরিষদ কমিটির সভায় তিনি এ কথা জানান।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, কর্মসূচির সুবিধা যেন প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছায়। প্রদত্ত অর্থ পরিবারের নারীর হাতেই থাকে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি করা হবে। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির কার্যক্রম তদারকিতে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) সক্রিয় ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, অতীতে বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে রাজনৈতিক বা দলীয় প্রভাবের অভিযোগ ছিল। কিন্তু ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিতে কোনো ধরনের দলীয় সম্পৃক্ততার সুযোগ থাকবে না। সরকারি কর্মকর্তারাই পুরো কার্যক্রম পরিচালনা ও তদারকি করবেন।
তিনি আরও বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির জন্য প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। দেশের দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের পরিবারের জীবনমান উন্নয়ন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য প্রাপ্তিতে সহায়তা দেয়ার লক্ষ্যে এ কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের এ বৃহৎ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে উপকারভোগীদের জীবনে কর্মসূচির প্রকৃত প্রভাব মূল্যায়ন করা হবে। অর্থাৎ, এ সহায়তা তাদের দারিদ্র্য হ্রাস, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও জীবনমান উন্নয়নে কতটা ভূমিকা রাখছে, সেটিও পর্যবেক্ষণের আওতায় থাকবে।
মন্ত্রী বলেন, সরকারের এত বড় ব্যয়ের একটি কর্মসূচির সুফল যেন প্রকৃত মানুষের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য মাঠ প্রশাসনকে সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো ভঙ্গুর অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা। সে স্থিতিশীলতার ভিত্তিতে দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেয়া। একই সঙ্গে বাজেটের সুফল সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য হলো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল শুধু একটি বিশেষ শ্রেণির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সে লক্ষ্য বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সুষ্ঠু তদারকি ও কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি দেশের দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ফ্যামিলি কার্ডের ক্ষেত্রে নারীপ্রধান পরিবারকে অগ্রাধিকার দেয়া হলেও ভবিষ্যতে বিশেষ পরিস্থিতিতে নীতিমালা পুনর্বিবেচনার সুযোগ রয়েছে।
উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, কোনো দরিদ্র পরিবারের নারী সদস্য মারা গেলে এবং পরিবারের দায়িত্ব যদি একজন পিতা একাই বহন করেন, তাহলে ভবিষ্যতে এমন বিষয়গুলো নীতিমালায় বিবেচনার সুযোগ থাকতে পারে।
তিনি আরও জানান, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের সুবিধা দেয়া হবে। এসব কার্ডধারী কৃষকরা স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং অন্যান্য সরকারি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। এ জন্য কর্মসূচিগুলোর স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
১ ঘন্টা ৪৫ মিনিট আগে
১ ঘন্টা ৪৭ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ৬ মিনিট আগে
১ দিন ৫ ঘন্টা ৫৫ মিনিট আগে
১ দিন ৭ ঘন্টা ৩১ মিনিট আগে
১ দিন ১৪ ঘন্টা ৪ মিনিট আগে