রাষ্ট্রের ভারসাম্য: সরকার, গণমাধ্যম ও বিরোধী দলের দায়িত্বশীল সহাবস্থান কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ‘পেপ্যাল’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী ২৭ জেলায় তাপপ্রবাহ অব্যাহত, রাজশাহীতে পরিস্থিতি চরম কমলো সোনা ও রুপার দাম দূরপাল্লার যানবাহনে বাড়লো বাস ভাড়া ইরানে চিকিৎসা সহায়তা পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ রাস্তার পাশে অসংখ্য ময়লার স্তূপ,দেখার কেউ নেই! নোয়াখালীতে দারোয়ানের শয়ন কক্ষে বিদেশি মদ, আটক ১ লক্ষ্মীপুরে নারী ভিক্ষুককে মারধরের পর মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে নির্যাতন বরিশালে কোচিং নির্ভরতা নিয়ে অভিযোগ কোচিং করলে পাশ, না করলে ফেল”—শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ প্রশাসন ও বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান, শিকলে আবদ্ধ ২৪ বছরের তরুণী টপসয়েল কাটা নীরব এক পরিবেশ বিপর্যয় ইউথ লিডালশীপ সামিটে যোগ দিতে অস্ট্রেলিয়া গেলেন অ্যাডভোকেট নাজমুল হাসান নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে তিন ইট ভাটাকে অর্থদন্ড আগামী প্রজন্ম সম্ভাবনা নাকি সংকটের অশনি সংকেত? আমার কলম কখনো বিক্রি করবো না : শ্রীমঙ্গলের ইউএনও জিয়াউর রহমান, গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে নবাগত ইউএনও’র মতবিনিময় ঝিনাইগাতীতে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত ঝিনাইগাতীর দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত ঝিনাইগাতীতে অন্তর্ভুক্তিকরণ ও আদিবাসীদের অধিকার বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত লাখাইয়ে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে কারণে অতিষ্ঠ জনজীবন।

প্রশাসন ও বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান, শিকলে আবদ্ধ ২৪ বছরের তরুণী


সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের প্রসাদপুর গ্রামে মানবিক বেদনার এক হৃদয়বিদারক চিত্র দেখা গেছে। অন্ধকারাচ্ছন্ন একটি ছোট ঘরের কোণে পড়ে আছে এক তরুণীর জীবন—পায়ে ভারী লোহার শিকল, তাতে ঝুলছে তালা। এভাবেই দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে শিকলবন্দী অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে মিতু (২৪)। অথচ সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের মতে, সঠিক ও উন্নত চিকিৎসা পেলে সে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মাত্র ৯ বছর বয়স থেকেই মিতুর আচরণে অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়। ধীরে ধীরে তার মানসিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারেনি পরিবার। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে, মিতু কখনো বাড়ি থেকে বের হয়ে যাওয়া কিংবা আশপাশের মানুষকে আঘাত করার চেষ্টা করত। নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে বাধ্য হয়েই পরিবার তাকে শিকলবন্দী করে রাখে। সেই শুরু, যা আজ ১৫ বছরের দীর্ঘ বন্দিজীবনে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মী ও চিকিৎসকরা মিতুর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে আশার কথা জানিয়েছেন। তাদের মতে, এটি কোনো জটিল বা নিরাময় অযোগ্য রোগ নয়। দীর্ঘদিন অবহেলা ও সঠিক চিকিৎসার অভাবেই তার সমস্যাটি গুরুতর আকার ধারণ করেছে। যথাযথ মানসিক চিকিৎসা, কাউন্সেলিং এবং পুনর্বাসনের সুযোগ পেলে মিতু আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

এদিকে, মিতুর পরিবার চরম আর্থিক দুরবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। দৈনন্দিন জীবনের ন্যূনতম চাহিদা পূরণ করতেই হিমশিম খেতে হয় তাদের। চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করা তাদের পক্ষে একেবারেই অসম্ভব। কান্নাজড়িত কণ্ঠে মিতুর মা বলেন, মেয়েকে এভাবে বেঁধে রাখা কোনো মায়েরই ভালো লাগে না। কিন্তু আমাদের কোনো উপায় নেই। যদি সরকার বা কোনো সহৃদয় ব্যক্তি এগিয়ে আসতেন, তাহলে আমার মেয়েটা হয়তো আবার সুস্থ হয়ে উঠত।

গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দারাও এই ঘটনার প্রতি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করেন, এটি শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের মানবিক দায়িত্ব। মিতুর মতো একজন তরুণী যেন শিকলমুক্ত হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে, সে জন্য প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবানদের দ্রুত এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

মিতুর জীবনে আবারও আলোর ঝলক ফিরবে—এমন প্রত্যাশায় দিন গুনছে তার পরিবার ও এলাকাবাসী।

Tag
আরও খবর